চাকা নেই, ঠিক যেন ওড়ে হাওয়ায়! কলকাতা থেকে দিল্লি পৌঁছবে আড়াই ঘণ্টায়, আসবে কী ভারতে?

কল্পনা করুন, কলকাতা থেকে দিল্লি যেতে আপনার সময় লাগছে মাত্র আড়াই ঘণ্টা। অথবা প্রতিদিন প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আপনি ডেলি-প্যাসেঞ্জারি করছেন। আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলেও, ম্যাগনেটিক লেভিটেশন বা ম্যাগলেভ ট্রেন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে পারে। যদিও এই প্রযুক্তি ভারতে এখনো আসেনি, তবে চীন ও জাপানে তা ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে।
কী এই ম্যাগলেভ ট্রেন?
ম্যাগলেভ ট্রেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রযুক্তিতে চলে। এর নামের মধ্যেই এর কার্যপ্রণালী লুকিয়ে আছে। ম্যাগলেভ বা ‘ম্যাগনেটিক লেভিটেশন’ প্রযুক্তির সাহায্যে এটি চুম্বকের শক্তি ব্যবহার করে লাইন থেকে কিছুটা উপরে ভেসে চলে। এর কোনো চাকা নেই এবং এটি কোনো সাধারণ রেললাইনের ওপর দিয়ে চলে না। এর লাইন বরাবর একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা হয়, যা ট্রেনটিকে শূন্যে ভাসিয়ে তোলে এবং অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে নিয়ে যায়।
বিশ্বজুড়ে ম্যাগলেভ ট্রেন
ম্যাগলেভ ট্রেনের প্রযুক্তিতে জাপান বরাবরই অগ্রগামী। ১৯৬৪ সালে বুলেট ট্রেনের পর জাপান এখন ম্যাগলেভ নিয়ে কাজ করছে। পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে জাপানি ম্যাগলেভ ট্রেন ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটারের বেশি গতিবেগ অর্জন করেছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, চীনের সাংহাই শহরে চালু থাকা ম্যাগলেভ ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৩১ কিলোমিটার। জার্মানিও নিজস্ব প্রযুক্তিতে ম্যাগলেভ ট্রেন তৈরি করেছে, যার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৯০ কিলোমিটার।
ভারতে কবে আসবে?
বর্তমানে ভারতের জনগণ বুলেট ট্রেনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। ম্যাগলেভ ট্রেন ভারতে কবে আসবে, তা বলা মুশকিল। এই ট্রেনের উচ্চ নির্মাণ ব্যয় এবং পরিচালনার খরচ এর অন্যতম প্রধান বাধা। যদি কখনো ভারতে এটি চালু হয়, তবে তার ভাড়া কত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। তবে প্রযুক্তির এই অবিশ্বাস্য অগ্রগতি নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে পরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।