বিশেষ: রাত বাড়লেই বাড়ে দালালদের দৌরাত্ম্য, ট্যাক্সি ভাড়া নিয়ে বিপর্যস্ত ট্রেনযাত্রীরা

একসময় হাওড়া স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেনের রিজার্ভেশন টিকিট ঘিরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ছিল সর্বজনবিদিত। পুলিশের লাগাতার ধরপাকড়ের পর সেই টিকিটের কালোবাজারি কিছুটা কমলেও, এবার নতুন উপদ্রব শুরু হয়েছে স্টেশনের বাইরে। টিকিট দালালির জায়গা নিয়েছে ট্যাক্সি দালালচক্র, যা রাতের বেলায় স্টেশনে ফেরা যাত্রীদের জন্য এক নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই নিয়ে প্রায় প্রতিদিন রাতে গণ্ডগোল লেগেই থাকছে।

হাওড়া স্টেশনে রাতে ট্রেনে করে ফেরা বহু যাত্রীরই অভিজ্ঞতা আছে, কীভাবে স্টেশনের বাইরে সরকারি ও বেসরকারি ট্যাক্সি স্ট্যান্ড ও পার্কিং জোনে রাতদুপুরে ট্যাক্সিভাড়া নিয়ে বচসা বাধে। অতীতে হাওড়া স্টেশনের বাইরে গঙ্গার ধারে, ওল্ড কমপ্লেক্স এবং নিউ কমপ্লেক্সের জন্য দুটি আলাদা ট্যাক্সি বুকিং সেন্টার ছিল, যেখানে যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ট্যাক্সি বুক করতে পারতেন। পরে এই ঝামেলা কমাতে রাজ্য সরকার ‘যাত্রীসাথি’ অ্যাপ চালু করে, যেখানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গাড়ি বুক করা যায়।

কিন্তু প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপ ক্যাবের সংখ্যা কমতে থাকে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই একশ্রেণির ট্যাক্সি দালালচক্রের রমরমা শুরু হয়েছে। তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া দাবি করে, আর সেই দাবি না মানলেই শুরু হয় বচসা।

গত শুক্র ও বৃহস্পতিবার রাতে এই নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে ট্যাক্সি চালক ও দালালচক্রের বচসার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। রেলযাত্রীরা জানান, হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে গঙ্গার ধার বরাবর যে গাড়ি পার্কিং জোন রয়েছে, সেখানে বিভিন্ন অ্যাপ ক্যাব ও প্রাইভেট ট্যাক্সি পার্ক করা থাকে। হাওড়া স্টেশন থেকে গঙ্গার ধারে যে গেট রয়েছে, সেখান দিয়ে বেরোলে প্রথমেই এই যাত্রীসাথি ট্যাক্সি স্ট্যান্ড দেখা যায়।

যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে চেষ্টা করেন সেখান থেকে গাড়ি বুক করার। যেহেতু অন্যান্য অ্যাপ ক্যাব বা বেসরকারি ট্যাক্সি স্ট্যান্ড কিছুটা দূরে, তাই স্টেশনের বাইরেই দালালরা ওঁত পেতে থাকে। তারা ‘ট্যাক্সি পাওয়া যাবে’ বলে যাত্রীদের ওই ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে নিয়ে যায়। কিন্তু যাত্রীরা গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যে ভাড়ার কথা বলে আসেন, ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি বেরনোর সময়ে হঠাৎই দু’-তিনশো টাকা পার্কিং ফি দাবি করা হয়। অথচ রেলের টেন্ডার দেওয়া এই পার্কিং জোনে গাড়ি পার্কিংয়ের চার্জ মাত্র ৭১ টাকা। এই অতিরিক্ত ভাড়া দাবি না করলেই যাত্রীদের সঙ্গে বচসা বাধে।

অনেক যাত্রীই এভাবে দুর্ভোগের শিকার হন। প্রতিবাদ করতে এলে অন্য চালক ও দালালরা তাদের ঘিরে ধরে হেনস্থা করে। এই নিয়ে বহুবার পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শুক্রবারের গণ্ডগোলের ঘটনার ভিডিও দেখে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হাওড়া স্টেশনে আসা হাজার হাজার যাত্রীর নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে এই দালালচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Editor001
  • Editor001