“দমদমে অমিত শাহের হুঙ্কার! অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে মমতাকে সরাসরি ‘বিদায়’ ঘণ্টা শোনালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী”

লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত পরমাণু বোমা ফাটালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দমদমের হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে কলকাতাকে ‘বস্তির শহর’ বলে অভিহিত করলেন তিনি। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যু তুলে তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি ‘টাটা, গুড বাই’ বার্তা দিলেন শাহ।
শাহের আক্রমণের মূল পয়েন্টগুলি:
-
কলকাতার হাল নিয়ে তোপ: অমিত শাহ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ বাম শাসন এবং তার পরবর্তী তৃণমূল জমানায় কলকাতার গরিমা ধুলোয় মিশেছে। তিনি বলেন, “যেই কলকাতা একসময় দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী ছিল, মমতা দিদির রাজত্বে তা আজ অনুপ্রবেশকারী আর বস্তির শহরে পরিণত হয়েছে।”
-
অনুপ্রবেশ ও ভোটব্যাঙ্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের লোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছেন। তাঁর সাফ কথা, “সিএএ (CAA) আসবেই, আর অনুপ্রবেশকারীদের রোখা হবেই। মমতা দিদি আপনি রুখতে পারবেন না।”
-
‘টাটা, গুড বাই’ চ্যালেঞ্জ: প্রথম দফার ভোটের আগেই শাহ আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের মনস্থির করে ফেলেছে। তৃণমূল সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি বিদ্রুপের সুরে বলেন, “আপনাদের সময় শেষ। এবার বিদায় নেওয়ার পালা। টাটা, গুড বাই!”
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: অমিত শাহের এই ‘বস্তির শহর’ মন্তব্যের পরেই গর্জে উঠেছে ঘাসফুল শিবির। জোড়াফুলের নেতাদের দাবি, এই মন্তব্য করে শাহ আসলে কলকাতার মানুষের অপমান করেছেন। শহরের উন্নয়নকে খাটো করে দেখাতেই এই ধরণের কুরুচিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
ভোটের সমীকরণ: দমদম কেন্দ্রটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেখানে দাঁড়িয়ে শাহের এই ‘অনুপ্রবেশ’ কার্ড এবং খোদ কলকাতাকে নিয়ে করা এই বিতর্কিত মন্তব্য ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
এক নজরে: কলকাতার পরিচয় নিয়ে শাহের এই মন্তব্য কি বুমেরাং হবে? নাকি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কুপোকাত হবে শাসক দল? উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি।