ফলের বাজারে IPL ম্যাজিক! তরমুজে নানা মোটিফ এঁকে তাক লাগালেন বিক্রেতা, পথচারীরা আকৃষ্ট তাঁর হাতের গুণে

এখন আইপিএল উন্মাদনায় মাতোয়ারা গোটা দেশ। আর এই উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরেও। রাস্তার ধারে বসে তরমুজ বিক্রি করতে গিয়ে নিজের অসামান্য শিল্পকর্ম দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব মেহের আলী শেখ। তাঁর সরু ছুরির ফলায় তরমুজের গায়ে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠছে আইপিএলের বিভিন্ন দৃশ্য, যা পথচারীদের নজর কাড়ছে।
কাটোয়া শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় গ্রীষ্মকালে তরমুজের চাহিদা ব্যাপক থাকে। প্রতিদিনের মতো মেহের আলী শেখও সেখানে তরমুজ বিক্রি করতে বসেন। কিন্তু তাঁর বিশেষত্ব হলো, তরমুজ বিক্রির ফাঁকেই তিনি ব্যস্ত থাকেন তাঁর শিল্পকর্মে। একটি সরু ফলার ছুরি দিয়ে তিনি তরমুজের গায়ে ফুটিয়ে তোলেন ব্যাট, বল, বোলিং অ্যাকশন, ব্যাটিং অ্যাকশনের মতো আইপিএলের বিভিন্ন থিম। এই শিল্পকর্ম ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষণ করলেও, এর জন্য তিনি কোনো অতিরিক্ত মূল্য নেন না।
এর আগেও মেহের আলীর হাতে তৈরি বিভিন্ন ছবি মুগ্ধ করেছে সাধারণ মানুষকে। তিনি তরমুজের গায়ে এঁকেছেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের মুখাবয়ব, প্রাকৃতিক দৃশ্য, কার্টুন ছবি, এমনকি বিশ্ববরেণ্য অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন, সঙ্গীত শিল্পী বাপি লাহিড়ী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার কপিল দেবের মতো ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতিও। তাঁর এই শিল্পকর্ম শুধু পথচারীদেরই নয়, ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করছে, যার ফলে তাঁর তরমুজ দেদার বিক্রি হয়।
কাটোয়া শহরের কেশিয়া পাড়ার বাসিন্দা মেহের আলী শেখ জানান, তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে হকারি করছেন। আঁকা তিনি কারও কাছে কোনোদিন শেখেননি। তবে তাঁর শিল্পকর্মের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা, যা তাঁকে আরও উৎসাহিত করে। মেহের আলী বলেন, “এখন আইপিএল চলছে। আমি নিজেও ক্রিকেট ভক্ত। তাই খরিদ্দারদের আকর্ষণ বাড়াতে আইপিএল নিয়েই আঁকছি।”
মেহের আলী শেখের এই অনন্য প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, শিল্পের কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা মাধ্যম হয় না। তাঁর এই সৃজনশীলতা শুধু তরমুজকেই নয়, সাধারণ মানুষের মনেও এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।