“তদন্তের মাঝে কেন মুখ্যমন্ত্রী? আইপ্যাক অফিসে মমতার উপস্থিতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা

আইপ্যাক (I-PAC) মামলায় এবার খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে বেনজির পর্যবেক্ষণ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের সাফ কথা, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্ত চলাকালীন জোর করে কোথাও ঢুকে পড়েন, তবে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোই প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়।”
আদালতের পর্যবেক্ষণে যা উঠে এল: গত জানুয়ারি মাসে নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট সংস্থা আইপ্যাক-এর অফিসে যখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি চালাচ্ছিল, তখন সেখানে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আদালতের মতে:
-
তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
-
একজন সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তি যখন তদন্তের স্থানে উপস্থিত হন, তা পরোক্ষভাবে তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
-
আইন তার নিজস্ব পথে চলবে, সেখানে ক্ষমতার আস্ফালন গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।
ঘটনার সূত্রপাত: উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে আইপ্যাক অফিসে সিবিআই বা ইডি-র (তদন্ত সাপেক্ষে) অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি আইনি লড়াইয়ে পৌঁছাতেই সুপ্রিম কোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করল।
অস্বস্তিতে শাসকদল: ভোটের মুখে শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যেখানে বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহার’-এর অভিযোগ আনছে নবান্ন, সেখানে সুপ্রিম কোর্টের এই পাল্টা মন্তব্য বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিল।
আদালতের মন্তব্য: “আইনের শাসন সবার জন্য সমান। সেখানে পদের দোহাই দিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা যায় না।”