দেনার দায়ে জর্জরিত সিভিক ভলেন্টিয়ারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, তদন্ত শুরু

ডিউটিতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। অবশেষে তাঁর বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি পাটের গুদাম থেকে উদ্ধার হলো তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ। মৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম শুভেন্দু মণ্ডল (৩৫)। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, ওই সিভিক ভলান্টিয়ার নাকি দেনার ভারে জর্জরিত ছিলেন। পাওনাদারদের টাকা সময়মতো মেটাতে না পারায় তিনি গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলেও জানা গেছে। পুলিশ মনে করছে, এই আর্থিক চাপ থেকেই তিনি চরম পদক্ষেপ নিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এই মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য বা কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান জানিয়েছেন, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনে হচ্ছে ঋণের টাকা শোধ করতে না পারার কারণেই সম্ভবত ওই সিভিক ভলান্টিয়ার আত্মহত্যা করেছেন। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে কিনা, সেটাও আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখছি। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”
(নিজস্ব ছবি: গুদাম থেকে উদ্ধার হওয়া সিভিক ভলান্টিয়ারের ঝুলন্ত দেহ)
মৃত শুভেন্দু মণ্ডল সগুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম পোলতা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও তাঁর বছর ছয়েকের একটি ছেলে রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে তিনি সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সকালে তিনি ডিউটিতে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, এরপর থেকেই তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বহু খোঁজ করেও শুভেন্দু’র কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চারঘাট বাজারে একটি পাটের গুদামের ভেতর থেকে পুলিশ তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। সেখান থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শুভেন্দুকে উদ্ধার করে দ্রুত স্বরূপনগরের শাঁড়াপুল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
(নিজস্ব ছবি: পরিবারের সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার শুভেন্দু মণ্ডল)
এদিকে, বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর রবিবার ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে মৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের শ্বশুর গোপাল মণ্ডল জানিয়েছেন, “সম্প্রতি জামাই বেশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। আর্থিক সংকট ওকে গ্রাস করেছিল। যার ফলে ও পাওনাদারদের টাকা মেটাতে পারছিল না। পাওনাদাররা এ নিয়ে ওকে চাপ দিচ্ছিল। সেই কারণেই জামাই খুব বিমর্ষ থাকতো। দুপুরে মেয়ে ফোন করে জানিয়েছিল যে জামাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর রাতে ওর নিথর দেহ উদ্ধার হল।” পরিবারের ধারণা, দেনার চাপেই তাঁর জামাই এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুলিশও এই ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে।