২৯ নাকি ৩০ এপ্রিল, কবে অক্ষয় তৃতীয়া? জেনেনিন পঞ্জিকা মতে এ বছর অক্ষয় তৃতীয়া সত্যি কবে

‘অক্ষয়’ শব্দটির মানে হলো যার কোনও ক্ষয় বা বিনাশ নেই; সহজ ভাষায় যা চিরস্থায়ী বা অবিনশ্বর। হিন্দু ধর্মে গভীর বিশ্বাস রয়েছে যে, অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য লগ্নে যে কোনও শুভ কাজ বা নতুন সূচনা করা হয়, তার ফল নাকি অক্ষয় থাকে। অর্থাৎ সেই শুভ ফলের কখনও বিনাশ হয় না এবং তা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথির দিনটিই অক্ষয় তৃতীয়া হিসেবে পালিত হয়। এই দিনের সঙ্গে যুক্ত একটি জনপ্রিয় কাহিনি অনুসারে, ধনসম্পত্তির দেবতা কুবের তাঁর কঠোর তপস্যার মাধ্যমে এই দিনেই মহাদেবকে সন্তুষ্ট করেছিলেন এবং মহাদেব তাঁকে অফুরন্ত ধনসম্পদ প্রদান করেছিলেন।
এ বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে অক্ষয় তৃতীয়া কবে পড়েছে, তা নিয়ে অনেকের মনেই কিছুটা সংশয় বা বিভ্রান্তি থাকতে পারে। দুটি ভিন্ন পঞ্জিকা মতে তিথির সময় কিছুটা ভিন্ন হওয়ার কারণে এই দ্বিধা তৈরি হয়। পঞ্জিকা অনুযায়ী সঠিক দিনক্ষণ দেখে নেওয়া যাক:
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে: তৃতীয়া তিথির শুরু হচ্ছে ১৫ বৈশাখ (২৯ এপ্রিল, মঙ্গলবার) বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে। এই তিথি শেষ হবে ১৬ বৈশাখ (৩০ এপ্রিল, বুধবার) দুপুর ২টো ১৩ মিনিটে।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে: তৃতীয়া তিথির শুরু হচ্ছে ১৫ বৈশাখ (২৯ এপ্রিল, মঙ্গলবার) রাত ৯টা ৪ মিনিটে। এই তিথি শেষ হবে ১৬ বৈশাখ (৩০ এপ্রিল, বুধবার) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে।
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটির বিশেষ তাৎপর্য এবং গুরুত্ব রয়েছে। যেমনটি নামের মধ্যেই রয়েছে, ‘অক্ষয়’ অর্থাৎ যা ক্ষয় হয় না, এবং ‘তৃতীয়া’ হলো চন্দ্র চক্রের তৃতীয় দিন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে যে কোনও শুভ কাজ শুরু করলে, নতুন কিছু কিনলে (বিশেষ করে সোনা, রুপো ইত্যাদি) বা বিনিয়োগ করলে তা খুব শুভ ফলপ্রসূ হয় এবং তার সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়। নতুন ব্যবসা বা পেশা শুরু করার জন্য অক্ষয় তৃতীয়াকে একটি অত্যন্ত শুভ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারেও এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র। কারণ এই দিনে সূর্য এবং চন্দ্র, উভয়েই তাদের উচ্চ রাশিতে (Exalted Position) অবস্থান করে, যা এই দিনটির শুভ শক্তিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই বিশেষ ঐশ্বরিক সংযোগের কারণে অক্ষয় তৃতীয়াকে সাফল্য, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য এবং আধ্যাত্মিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত শুভ ও ফলদায়ী একটি দিন মনে করা হয়।