“রোগী ধরে আনতে না পারলেই সাসপেন্ড”-কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ অধ্যাপকের

‘রোগী ধরে আনতে না পারলেই সাসপেন্ড’, এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে শান্তিনিকেতন ইনস্টিটিউট অফ পলিটেকনিক এবং শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের কর্ণধার মলয় পিটের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মহলে।

অভিযোগকারী হলেন শান্তিনিকেতন ইনস্টিটিউট অফ পলিটেকনিক-এর এক লেকচারার, নাম সূর্যকান্ত সোম। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মলয় পিটের নির্দেশ মতো হাসপাতালে রোগী ভর্তি করাতে না পারায় সাসপেনশনের তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, শুধুমাত্র তিনিই নন, তাঁর মতো আরও ১১ জনের নাম এই একই কারণে কলেজের সাসপেনশনের তালিকায় রয়েছে, তবে সকলে ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর লেকচারার সূর্যকান্ত সোম বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছেন, ‘স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্তর্গত যে মেডিকেল কলেজ রয়েছে, সেখানে একটা করে রোগী ভর্তি করার কথা আমাদের প্রত্যেককেই বলা হয়েছে। এই নির্দেশ দিয়েছেন আমাদের রেজিস্টার স্যার এবং প্রেসিডেন্ট স্যার মলয় পিট। আমাদেরকে বলা হয়েছে পেশেন্ট ভর্তি করাতে না পারলে আমাদের ছাড়িয়ে দেওয়া হবে। শুধু আমি নয় মোট ১১ জনের সঙ্গে এই জিনিস হয়েছে তবে সকলে মুখ খুলতে পারছে না।’

লেকচারার সূর্যকান্ত সোমের অভিযোগের জবাবে শান্তিনিকেতন ইনস্টিটিউট অফ পলিটেকনিক এবং শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের কর্ণধার মলয় পিট এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রোগী ভর্তি করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা গরিব, অর্থনৈতিক ভাবে অসহায় তাঁদের একজন করে আমরা আইপিডিতে ভর্তি করব – এই বিষয়টিই বলা হয়েছিল। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে, নিজেদের সংস্থাকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এ পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ভুল থাকতে পারে। আইনের মারপ্যাঁচ থাকতে পারে বা কারও আলাদা উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাই কে কী বলছে তাতে কিছু যায় আসে না। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

শুধু রোগী ভর্তির অভিযোগই নয়, লেকচারারকে বরখাস্ত করার বিষয়টিকেও মলয় পিঠ ভুয়ো বলে দাবি করেন। যদিও কর্তৃপক্ষের এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে অভিযোগকারী লেকচারার সূর্যকান্ত সোম এই সমগ্র বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেলে অভিযোগ জানিয়েছেন।

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই ঘটনা রাজ্য জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি এখন প্রশাসনের উচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা কী বেরিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার।