পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার আবহেই, গুজরাতে ১ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি গ্রেফতার, চলছে কড়া অ্যাকশন !

জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে নিরীহ পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর থেকেই দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা সহ বিভিন্ন মেট্রোপলিটান শহরে চলছে কড়া নজরদারি ও চিরুনি তল্লাশি। আর এই ব্যাপক তৎপরতার আবহেই গুজরাতে এক বড়সড় অভিযানে পাকড়াও হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী।

আমদাবাদ এবং সুরাত শহরে পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে মোট ১০২২ জন বাংলাদেশি গ্রেফতার হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এঁদের কাছে ভারতে বসবাসের বা প্রবেশের কোনও বৈধ নথিপত্র ছিল না। বেআইনি ভাবেই তাঁরা এদেশে প্রবেশ করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, এঁরা জাল বা ভুয়ো কাগজপত্রের সাহায্যে ভারত ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। আমদাবাদ শহর থেকে গ্রেফতার হয়েছেন ৮৯০ জন বাংলাদেশি, অন্যদিকে সুরাত থেকে পাকড়াও হয়েছেন ১৩২ জন। এই বৃহৎ আকারের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফে ৬টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল।

গুজরাত পুলিশ, স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি), ক্রাইম ব্রাঞ্চ, অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট, ইকোনমিক অফেন্স উইং এবং স্থানীয় পুলিশ – রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এই যৌথ অভিযানে অংশ নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। আমদাবাদে এই অভিযান শনিবার ভোর ৩টে থেকেই শুরু হয়েছিল।

অন্যদিকে, পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত জঙ্গিরা এখনও ধরা পড়েনি। কাশ্মীরের আনাচে-কানাচে তাদের খোঁজে নিরাপত্তা বাহিনীর চিরুনি তল্লাশি অভিযান চলছে। রাজৌরি সেক্টরে সেনাবাহিনী বড়সড় অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পহেলগাঁওয়ের হামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই কুলগাম থেকে ২ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি এবং বান্দিপোড়া থেকে এজাজ আহমেদ নামে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া ছবির সঙ্গে এদের চেহারার মিল খুঁজে পাওয়ার পর আটক করা হয়েছে।

পহেলগাঁও হামলার প্রত্যাঘাত হিসেবে এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা, কুলগাম ও সোপিয়ানে লস্কর-ই-তৈবার ৩ জন জঙ্গির বাড়ি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, এই ৩ জনই পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। গত রাতে পুলওয়ামার মুরানে লস্কর জঙ্গি এহসান-উল-হক শেখের বাড়ি, কুলগামের মাতালহামায় আরেক লস্কর জঙ্গি জাকির আহমেদ গণিয়ার বাড়ি এবং সোপিয়ানের চটিপোরায় শহিদ আহমেদ কুতেইয়ের বাড়ি বিস্ফোরণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এর আগেও ত্রাল ও বিজবেহারায় দুই জঙ্গি আসিফ আহমেদ শেখ এবং আদিল গুরুর বাড়িও একই ভাবে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

পহেলগাঁওয়ের হামলার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও নজরদারি যে কতটা বাড়ানো হয়েছে এবং বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে যে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, গুজরাতের এই বৃহৎ অভিযান তারই স্পষ্ট প্রমাণ। এটি বুঝিয়ে দেয় যে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।