“যে কোনও দরকার হলে জানাবেন…”- উধমপুরে শহিদ ঝন্টুর পরিবারকে ফোন মুখ্যমন্ত্রী মমতার

কাশ্মীরের উধমপুরে সেনা এবং সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হলেন বাংলার এক বীর জওয়ান। নদিয়ার পাথরঘাটার বাসিন্দা ঝন্টু আলি শেখ কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারান। জম্মু কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরই উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূল করতে ভারতীয় সেনা অভিযান শুরু করে। সেই সময়ই উধমপুরে সেনার সঙ্গে জঙ্গিদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, যেখানে ঝন্টু শহিদ হন। এই শোকাবহ খবর তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছনোর পর গোটা গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। শহিদের শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পরিবারের যে কোনও প্রয়োজনে রাজ্য সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাসও দিয়েছেন।

শহিদ ঝন্টু আলি শেখ ছিলেন নদিয়ার পাথরঘাটা গ্রামের এক কৃষিজীবী পরিবারের সন্তান। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তাঁর বড় দাদাও ভারতীয় সেনায় কর্মরত। প্রায় ছত্রিশ বছর বয়সী এই যুবক ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৬ প্যারা স্পেশাল ফোর্সের একজন অত্যন্ত দক্ষ সদস্য ছিলেন। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ভারতীয় সেনায় অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করছিলেন। কর্মসূত্রে তিনি আগ্রাতে পোস্টিং ছিলেন এবং সেখানেই স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন।

পহেলগাম হামলার পর উপত্যকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সন্ত্রাস দমন অভিযানের অংশ হিসেবে ঝন্টুকেও বিশেষ অপারেশনের জন্য কাশ্মীরে পাঠানো হয়েছিল। কাশ্মীরের উধমপুরে সেনার সঙ্গে জঙ্গিদের মুখোমুখি গুলির লড়াই শুরু হলে সেখানেই তিনি নিজের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে শহিদ হন। স্পেশাল অপারেশনের জন্য পাঠানো হলেও, সেখান থেকে এভাবে কফিন বন্দি হয়ে প্রিয়জনের কাছে ফিরবেন, তা তাঁর পরিবারের কেউ কল্পনাও করেননি।

ঝন্টুর শহিদ হওয়ার খবর গ্রামে পৌঁছনোর পর থেকেই গোটা গ্রামে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। গ্রামের মানুষ ঝন্টুর আত্মত্যাগে গর্বিত হলেও, প্রিয় সন্তানকে হারানোর বেদনা তাঁর পরিবারকে শোকে পাথর করে দিয়েছে। শহিদের বাবা সবুর শেখ জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং তাঁদের ফোনে করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

শহিদের বাবা সবুর শেখ আরও জানান, এরই মধ্যেই ছুটি নিয়ে কিছুদিন আগে বাড়ি এসেছিলেন ঝন্টু। গত মার্চ মাসে তিনি ফের ডিউটিতে যোগ দেন। কর্মসূত্রে তিনি আগ্রাতে থাকলেও, মাঝেমধ্যে ফোন মারফত পরিবারের সঙ্গে কথা হতো। কিন্তু কাজের প্রচুর চাপ থাকায় গত কয়েকদিন ঠিকমতো বাড়িতে ফোনও করতে পারেননি তিনি। তারপরই অভিশপ্ত একটি ফোনে এল তাঁর শহিদ হওয়ার খবর, যা সবুর শেখ এবং তাঁর পরিবারকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। দেশের সুরক্ষায় প্রাণ দেওয়া এই বীর শহিদের আত্মত্যাগে গর্বিত তাঁর পরিবার ও গ্রামবাসী, তবে প্রিয়জনকে হারানোর অপূরণীয় ক্ষতি তাঁদের কাছে সবথেকে বড়।