পহেলগাঁওয়ের ‘ভয়’ জয় করার ডাক সুনীল শেঠীর, ছুটি কাটাতে কাশ্মীরেই যেতে চান অভিনেতা !

জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগাঁওতে নিরীহ পর্যটকদের ওপর সম্প্রতি যে নারকীয় হামলা চালানো হয়েছে, তার নিন্দায় বিশ্বজুড়ে ঝড় উঠেছে। এই হামলার ফলে ভূ-স্বর্গ খ্যাত কাশ্মীর উপত্যকা ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে, সেখানকার স্বাভাবিক শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে এবং কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসা আবারও এক অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। উপত্যকার শান্তি ও সমৃদ্ধি নষ্ট করাই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির প্রধান উদ্দেশ্য থাকে, আর এই হামলা সেই উদ্দেশ্যকেই সফল করার একটি প্রচেষ্টা।
তবে এই পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে, বরং পাল্টা জবাব দেওয়ার এক দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন বলিউড অভিনেতা সুনীল শেঠী। তাঁর মতে, জঙ্গিদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া যাবে না এবং কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসাকে পুনরায় জাগিয়ে তুলে তাদের যোগ্য জবাব দিতে হবে। তিনি দেশবাসীকে কাশ্মীর ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রয়াত দীননাথ মঙ্গেশকর অ্যাওয়ার্ড সেরেমনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অভিনেতা বলেন, “আমাদের মতো নাগরিকদের একটাই কাজ করতে হবে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমাদের পরবর্তী যে ছুটিগুলো হবে তা কাশ্মীরেই কাটানো হবে অন্য আর কোথাও নয়। ওদেরকে এটাই দেখাতে হবে যে আমরা ভয় পাই না।” এই কথার মাধ্যমে তিনি পর্যটকদের নির্ভয়ে কাশ্মীরমুখী হওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর ‘ধড়কন’ খ্যাত এই অভিনেতা জানান যে তিনি নিজেও কাশ্মীর যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একজন শিল্পী হিসাবে শুটিংয়ের জন্য হোক বা নিছক পর্যটক হিসাবে বেড়াতে যাওয়ার জন্য হোক, তিনি ইতিমধ্যেই উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, “আমি নিজে ফোন করে জানতে চেয়েছি যে, যদি মনে হয় শিল্পী হিসাবে কাশ্মীরে শুটিং করতে হবে বা পর্যটক হিসাবে বেড়াতে যেতে হবে, তাহলে আমি নিশ্চই যাব।”
এর পাশাপাশি সুনীল শেঠী দেশবাসীকে এই কঠিন সময়ে এক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, “বর্তমানে আমাদের মধ্যে একতা রাখতে হবে। যারা ভয় আর ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করছে তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। আমাদের একসঙ্গে আসতে হবে আর বোঝাতে হবে কাশ্মীর আমাদের ছিল, আমাদের আছে, আমাদের থাকবে।”
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসারান উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। এই নৃশংস ঘটনায় ২৫ জন ভারতীয় এবং একজন নেপালি পর্যটক নিহত হন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র রাগে ফুঁসছে মানুষ এবং জঙ্গিদের খতম করে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। এমন এক কঠিন সময়ে সুনীল শেঠীর কাশ্মীর ভ্রমণের আহ্বান শুধুমাত্র পর্যটনের প্রচার নয়, এটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক দৃঢ় মানসিক প্রতিরোধের ডাক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।