ইউক্রেনের সুমিতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৩১, আহত ৮৪, বিশ্বকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জেলেনস্কির

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে শর্তসাপেক্ষে আলোচনা হলেও, বাস্তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা কমেনি। রবিবার ফের ইউক্রেনের সুমি শহরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় অন্তত ৩১ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে দুটি শিশু। এছাড়াও, ৮৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হামলায় বহু বাড়িঘর ও দোকানপাট সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এর তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ান বাহিনী শহরের একেবারে জনবহুল কেন্দ্রে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। রবিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ যখন রাস্তায় বহু মানুষের আনাগোনা ছিল, ঠিক তখনই এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জন শিশু রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি কর্তৃক শেয়ার করা ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, উদ্ধারকর্মীরা নিহত ও আহতদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছেন। হামলায় বহু গাড়ি আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বাড়ি ও দোকানপাট ভেঙে চুরমার হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কাঁচ, কংক্রিটের টুকরো এবং গাছের ডালপালা।
এই হৃদয়বিদারক ভিডিয়োটির সাথে জেলেনস্কি তার এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে লিখেছেন, ‘শুধুমাত্র জঘন্যতম মানসিকতার মানুষেরা এইরকম কাজ করতে পারে। এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। নিহতদের পরিবার এবং প্রিয়জনদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ঘটনাস্থলে সমস্ত প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘বিশ্বকে দৃঢ়ভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং বিশ্বের সেই সকল মানুষ যারা এই যুদ্ধ এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অবসান চান, তাদের এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।’
জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়া ঠিক এই ধরণের সন্ত্রাস চায় এবং এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। রাশিয়ার উপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। আলোচনা কখনোই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান বোমা হামলা থামাতে পারেনি। রাশিয়ার প্রতি এমন মনোভাব দেখানো প্রয়োজন যা একজন সন্ত্রাসীর প্রাপ্য। যারা ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আমাদের জীবন রক্ষায় সাহায্য করছেন, আমি তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
এই হামলার ঘটনা আবারও ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের উপর রাশিয়ার অমানবিক আগ্রাসনের চিত্র তুলে ধরল। আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া এবং এর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন সকলের নজর।