নির্বাচনী কেন্দ্রে জ্বলছে আগুন, সাংসদ ইউসুফ পাঠান ব্যস্ত প্রকৃতির শোভা উপভোগে! সমালোচনার ঝড়

সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদ যখন হিংসার আগুনে পুড়ছে, তখন বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান নিজের সংসদীয় কেন্দ্র থেকে বহু দূরে এক শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশে অলস সময় কাটাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছুটি কাটানোর ছবি পোস্ট করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইউসুফ পাঠান একটি মনোরম পরিবেশে চায়ের কাপ হাতে প্রকৃতির শোভা উপভোগ করছেন। রাজকীয় ভঙ্গিতে রিল্যাক্স মুডে থাকা এই সাংসদ পোস্টে লিখেছেন, ‘সহজ-সরল দুপুর, ভালো চা, শান্ত পরিবেশ। এই মুহূর্ত শুষে নিচ্ছি।’ বহরমপুরের সাংসদের এই ছবি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
তবে, নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে যখন একের পর এক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে, এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটছে, তখন সাংসদ হিসেবে ইউসুফ পাঠানের এই নির্বিকার ছবি দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্টের কমেন্ট সেকশনে অনেকেই মুর্শিদাবাদের হিংসাত্মক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তাঁকে আক্রমণ করছেন।
ইউসুফকে আক্রমণ বিজেপি-র:
মুর্শিদাবাদের হিংসার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপিও। দলের মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলা জ্বলছে। এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যা হচ্ছে তা সরকারের মদতে, সরকারের নিরাপত্তায়, সরকারের প্রশ্রয়ে হিন্দুদের উপর অত্যাচার। হিন্দুরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করা হচ্ছে। কীভাবে গেরুয়া পতাকা টেনে নামানো হয়েছে, তাও আমরা দেখেছি। স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিতে এসব হচ্ছে। আমরা দেখেছি হিন্দুদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেছে বেছে হিন্দুদের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেভাবে হিন্দুদের হেনস্থা করা হচ্ছে, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লজ্জিত হওয়া উচিত। তিনি এখনও তোষণে ব্যস্ত।’
রাজ্যেও প্রতিবাদ বিজেপি-র:
শুধু মুর্শিদাবাদেই নয়, সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা রাজ্য সরকার ও শাসক দলের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে, নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সাংসদের এই অবকাশ যাপনের ছবি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে তাঁর দায়িত্ববোধ নিয়ে। যখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও সাহায্যের জন্য তাঁর দিকে তাকিয়ে, তখন তাঁর এই নীরবতা ও আরাম আয়েশে মগ্ন থাকা ভালোভাবে নেননি কেউই। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ইউসুফ পাঠানের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং তাঁকে দ্রুত এলাকায় ফিরে এসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।