“বাড়িতে বাজি রাখার কী দরকার?”-পাথরপ্রতিমা প্রসঙ্গে গুজরাটকেও টানলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাটে বাজি বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষকে বাঁচাতে সচেতন হতে হবে। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে লাইসেন্স ছিল। কিন্তু গুজরাতের বাজি কারখানার বিস্ফোরণের ঘটনায় লাইসেন্স ছিল না।”
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “নিজের বাড়িতে গ্যাস সামলে রাখুন। এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়। ইনসিওরেন্স পেতে এই সময়ে এমন ঘটনা আগেও হয়েছে। বাজি ও গ্যাস সিলিন্ডার যেখানে থাকে সেখানে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।” তিনি এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকেও সচেতন থাকার অনুরোধ জানান। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “বাড়িতে বাজি রাখার কী প্রয়োজন?”
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে একই পরিবারের আটজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে দুটি সদ্যোজাত শিশু সহ চারজন শিশুও রয়েছে।
ঢোলাহাটের এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কল্যাণীতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ২ মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই ফের আরও একটি বিস্ফোরণের ঘটনা। ভূপতিনগর, এগরা, বজবজ, কল্যাণী… তালিকাটা দিনে দিনে দীর্ঘ হচ্ছে। রাজ্যের তরফে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আরও কত দুর্ঘটনা ঘটবে? আগামী কালই সম্ভবত নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হবে। মানুষ আজকের এই ঘটনাটি ভুলে যাবে যতক্ষণ না পরবর্তী দুর্ঘটনা ঘটছে। বাংলায় কেন বারে বারে এই একই ধরণের ঘটনা ঘটছে তার কোনও জবাব নেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে। বারে বারে একই ঘটনার জন্য ‘অদক্ষ পুলিশ মন্ত্রী’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী।”
এদিকে, পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট বিস্ফোরণ কাণ্ডে ইতিমধ্যেই বাড়ির বড় ছেলে চন্দ্রকান্ত বণিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে, বাজি ব্যবসায়ী পরিবারের দুই সদস্য চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তাঁর ভাই তুষারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছিল ঢোলাহাট থানার পুলিশ। ঘরে বিপজ্জনক বস্তু মজুত রাখা, অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা-সহ মোট ছ’টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। দমকল আইনেও মামলা রুজু হয়েছিল দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, ব্যবসার বেশির ভাগটাই চন্দ্রকান্ত দেখভাল করত এবং তুষার তাকে সাহায্য করত।
এদিন নবান্নে জমা দেওয়া রিপোর্টে জেলাশাসকের তরফে জানানো হয়েছে, ওই পরিবারের বাজি কারখানা চালানোর কোনও বৈধ লাইসেন্স ছিল না। লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সচেতনতার বার্তা এবং বিরোধী দলনেতার অভিযোগের মধ্যে, ঢোলাহাটের এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের একবার রাজ্যে অবৈধ বাজি কারবার এবং বিস্ফোরক মজুতের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং নজরদারি নিয়েও উঠছে একাধিক সমালোচনা।