‘বিদেশেও শুনতে হচ্ছে আমি হিন্দু কিনা!’, বিজেপিকে তোপ মমতার, ভুয়ো খবর ছড়ানোর অভিযোগ

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি-র ‘জুমলা পার্টি’-র একটাই কাজ – বিভাজন করা। সংবিধানকে শ্রদ্ধা জানানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি শ্রীকৃষ্ণের বাণী শোনেন, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি, আম্বেদকর এবং রামকৃষ্ণদেবকেও পড়েন। তাঁর কাছে “কর্ম যার, ধর্ম যার”- এই নীতিই প্রধান।
মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিদেশে গিয়েও তাঁকে শুনতে হচ্ছে তিনি হিন্দু কিনা! তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তিনি এই প্রশ্নের উত্তর বিজেপিকে দেবেন? তিনি আরও অভিযোগ করেন, রটিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তিনি নাকি পদত্যাগ করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আর কত ভুয়ো খবর ছড়াবে? আমরা এফআইআরও করেছি। এর আগে বাংলাদেশের ভিডিয়ো দেখিয়ে মুর্শিদাবাদের বলে চালিয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অশান্তিতে উসকানি দিতেই এই ধরনের ভুয়ো ভিডিয়ো ও খবর ছড়ানো হচ্ছে। কার্যত বামেদের নিশানা করে তিনি বলেন, “যত এসব করবেন, শূন্য থেকে মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যাবেন।”
সমাজের অর্থনৈতিক প্যারামিটার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গরিব মানুষরা যাতে ন্যায্য মূল্যে ন্যায্য জিনিস পান, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং এখন স্বাস্থ্যই প্রধান। স্বাস্থ্যই সম্পদ। সেই কারণেই রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যসাথী, জেনেরিক মেডিসিন এবং ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপের ব্যবস্থা করেছে। তিনি জানান, বিনামূল্যে চিকিৎসা করতে গিয়ে রাজ্যের প্রচুর খরচ হয়। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিমার উপর জিএসটি যোগ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এর বিরোধিতা করেন এবং বলেন, স্বাস্থ্যের উপর বাধা নিষেধ করে জিএসটি প্রয়োগ করা উচিত নয়। কেন্দ্রীয় সরকার গরিব মানুষের সব কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পুনরায় বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “জুমলা পার্টির একটাই কাজ বিভাজন করো। সংবিধানকে আগে শ্রদ্ধা করো। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। পরিস্কার বলছি শ্রীকৃষ্ণের বানীও শুনি, স্বামী বিবেকানন্দও পড়ি, নেতাজিও পড়ি…আম্বেদকরও পড়ি, রামকৃষ্ণদেবও পড়ি। একই কথা কর্ম যার ধর্ম যার।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি। আমায় বিদেশে গেলে কেন প্রশ্ন করবে, আর ইউ এ হিন্দু? হু আর দে? আমি কি বলতে বাধ্য বিজেপিকে! কালকে তো ছেড়ে দিয়েছে আমি নাকি রেজিগনেশন করেছিলাম। কত আর ফেক চলবে। ফেক আর ফেক। আমরা এফআইআর করেছি। যা তা করে বেড়াচ্ছে। কয়েকটা ডিজিটালকে টাকা দিয়ে। সবাই নয়। আমায় দশটা গালাগালি দিন আমার গায়ে ফোস্কা পড়বে না। আমি হ্যাবিচুয়েটেড হয়ে গিয়েছি। কিন্তু প্রতিদিন মিথ্যে কথা বলছেন। ফেক ভিডিয়ো করছেন। বাংলাদেশের ভিডিয়োকে বাংলার বলে দেখিয়েছিল, গুজরাট রাজস্থানের ভিডিয়ো বলে বাংলার বলে দেখিয়েছিল।”