একলাফে ভাড়া বেড়ে দ্বিগুণ, মনমোহনপুর ফেরিঘাটে বিক্ষোভ যাত্রীদের

পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানার অন্তর্গত নসরতপুর পঞ্চায়েতের মনমোহনপুর ফেরিঘাটে ভাড়া বৃদ্ধির জেরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভাগীরথী নদীতে নৌকা পারাপারের ভাড়া এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় жители ও নিত্যযাত্রীরা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে।
জানা গিয়েছে, মনমোহনপুর ফেরিঘাটে এতদিন মানুষ পারাপারের ভাড়া ছিল ৫ টাকা, যা বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা। সাইকেলসহ যাত্রীদের ভাড়া ৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২ টাকা এবং মোটরসাইকেলের ভাড়া ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কোনও রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘাট মালিক কর্তৃপক্ষ এই ভাড়া বৃদ্ধির তালিকা টাঙিয়ে দেন। সকালে যাত্রীরা ঘাটে এসে নতুন ভাড়া তালিকা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে জলপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনের ভাড়া সরাসরি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। এদিন সকালে নিত্যযাত্রী, ছোট ব্যবসায়ী, রোগী ও তাদের পরিবার এবং স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁরা কোনও কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ। এমনকি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতেও অস্বীকার করেন কর্তৃপক্ষ।
এর পরেই ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ শুরু করে এবং ঘাটের সাইনবোর্ড ও ভাড়া বৃদ্ধির তালিকা ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নাদনঘাট থানার পুলিশ পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে।
নসরতপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মোমিন হোসেন মন্ডল এই প্রসঙ্গে জানান, জেলা পরিষদের নির্দেশক্রমে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই ভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। আজ ভাড়া বৃদ্ধির পরই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য উভয় পাড়ের লোকজনদের ডাকা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘাট মালিকের তরফে গঙ্গা চৌধুরী বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি বহুবার যাত্রীদের অনুরোধ করেছেন, কিন্তু তাঁরা কোনও সাড়া দেননি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনমোহনপুর ফেরিঘাট এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারেন স্থানীয় বাসিন্দারা, এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।