IPL-এ দাম মাত্র ৩০ লাখ, কোটি টাকার খেলোয়াড়দের থেকেও ভালো খেলছেন যে ৩ ক্রিকেটার?

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), শুধু একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়, যেন তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটারদের স্বপ্ন পূরণের মঞ্চ। প্রতি বছর এই টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসেন একাধিক প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যারা বিশ্ব ক্রিকেটের দরবারে নিজেদের জাত চেনান। শুধু আইপিএলে ভালো পারফর্ম করেই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার বহু নজির রয়েছে। সেই কারণেই ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ আইপিএল-কে ‘ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ’-এর পরিবর্তে ‘ইন্ডিয়ান পসিবল লিগ’ আখ্যা দিতে শুরু করেছেন।
২০২৫ সালের আইপিএলও তার ব্যতিক্রম নয়। এখনও পর্যন্ত মাত্র ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার ব্যাট ও বল হাতে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে এবং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশা জাগিয়েছে।
এই অল্প সময়ের মধ্যেই নজর কেড়েছেন এমন পাঁচজন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়কে নিয়ে আলোচনা করা হলো:
১. অশ্বিনী কুমার (মুম্বই ইন্ডিয়ান্স): মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই তরুণ পেস বোলার ১২ নম্বর ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে অনবদ্য বোলিং করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। তিনি একাই ৪টি উইকেট তুলে নেন এবং আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক ম্যাচেই চার উইকেট নেওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। গত আইপিএলে পঞ্জাব কিংসে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি। এবারের নিলামে নীতা আম্বানির দল তাঁকে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকায় কেনে। পঞ্জাবের এই ক্রিকেটারের প্রধান অস্ত্র হল গতি, সুইং এবং ইয়র্কার। পাশাপাশি, স্লোয়ার ডেলিভারিও বেশ কার্যকর।
২. ভিগনেশ পুথুর (মুম্বই ইন্ডিয়ান্স): এবারের আইপিএলের আরেক বিস্ময় ভিগনেশ পুথুর। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই স্পিনার অভিষেক ম্যাচেই চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছেন। কেরালার বাসিন্দা ভিগনেশ শুরুতে পেস বোলার ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে কোচের পরামর্শে স্পিন বোলিং শুরু করেন। আইপিএলে নিজের প্রতিভা দেখালেও কেরালার সিনিয়র দলের হয়ে এখনও একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ভিগনেশের বাবা একজন অটোচালক।
৩. অনিকেত বর্মা (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ): তরুণ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে নজর কেড়েছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অনিকেত বর্মা। দিল্লি ক্যাপিটালস এবং লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে যখন সানরাইজার্স ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন অনিকেত দলের হাল ধরেন এবং ৪১ বলে ৭৪ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেন। লখনউয়ের বিরুদ্ধেও তিনি মাত্র ১৩ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। ঝাঁসির ২৩ বছর বয়সী অনিকেত ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনো ম্যাচ না খেললেও, মধ্যপ্রদেশ লিগে তাঁর নজরকাড়া পারফরম্যান্সের সুবাদেই হায়দরাবাদ দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন দল তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকায় দলে নিয়েছে।
এই তরুণ ক্রিকেটারদের উত্থান প্রমাণ করে যে আইপিএল সত্যিই ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তুলে ধরার এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। ‘ইন্ডিয়ান পসিবল লিগ’ নামটি হয়তো নেহাতই রসিকতা, কিন্তু এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তরুণ প্রতিভাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাওয়াই এর আসল মাহাত্ম্য। আগামী দিনে আরও কত নতুন প্রতিভা এই মঞ্চ থেকে উঠে আসে, সেটাই এখন দেখার।