আলিপুরদুয়ারে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে, পদ ছাড়লেন কুমারগ্রামের বিধায়ক

বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আলিপুরদুয়ারে কি গেরুয়া শিবিরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র এক বছর বাকি থাকতে, আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁ রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। শুধু তাই নয়, দলের সমস্ত পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন তিনি।
আলিপুরদুয়ার জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা মনোজ কুমার ওরাওঁ মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষ বাংলায় পরিবর্তন আনতে জান প্রাণ লাগিয়ে দিচ্ছে। কয়েকজন নেতৃত্ব ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কয়েকজন সাধারণ কর্মীদের ভাবাবেগে আঘাত করে ও তাদের পছন্দের বিরুদ্ধে চাটুকারিতাকেই প্রধান্য দিচ্ছে। আলিপুরদুয়ার জেলায় নির্বাচনে দলের রেজাল্ট খারাপ হলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে।”
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছে ডেপুটেশন দিতে উত্তরবঙ্গের ১০ জন বিজেপি বিধায়ক দিল্লি গেলেও, সেই দলে ছিলেন না মনোজ কুমার ওরাওঁ। এরপরই তাঁর এই বিস্ফোরক পোস্ট দলের অন্দরে অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মনোজ কুমার ওরাওঁ আরও লেখেন, “এই পরিবেশে দলের কোনও দায়িত্বে থাকতে পারছি না। তাই সব দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে বিজেপিতে থাকব।”
বিধানসভায় বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বরাবর সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে মনোজ কুমার ওরাওঁকে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশনেও তাঁকে মার্শাল দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সক্রিয় বিধায়কের এমন পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
আলিপুরদুয়ার জেলায় মোট পাঁচটি বিধানসভা আসন। ২০২১ সালের নির্বাচনে সবকটিতেই জয়ী হয়েছিল বিজেপি। তবে পরবর্তীতে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল তৃণমূলে যোগ দেন। অন্যদিকে, মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হওয়ায় বিধায়ক পদ ত্যাগ করেন। গত নভেম্বরের উপনির্বাচনে সেই মাদারিহাট আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারে বিজেপির খারাপ ফল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মনোজ কুমার ওরাওঁ।
আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপি এখনও পর্যন্ত নতুন সভাপতি নির্বাচন করতে পারেনি। সাংসদ মনোজ টিগ্গা বর্তমানে জেলা সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। বিজেপির ২৫টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ঘোষণা হলেও, আলিপুরদুয়ারের সভাপতির নাম এখনও ঘোষণা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মনোজ কুমার ওরাওঁয়ের পদত্যাগ দলের জন্য আরও একটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কুমারগ্রামের বিধায়কের এই পোস্টের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তিনিও কি এবার তৃণমূলের দিকে ঝুঁকবেন? এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “মনোজ তৃণমূলে যোগ দেবেন না। পারিবারিক কারণে দিল্লিতে আসতে পারেননি জানি। উনি অত্যন্ত দক্ষ কার্যকর্তা। উনি বিধানসভাতেও অনেক সামনের সারিতে থাকেন। দলের তরফে নিশ্চয়ই ওঁর সঙ্গে কথা বলা হবে। আমার যেহেতু বন্ধু স্থানীয়, সেকারণে আমিও ওঁর সঙ্গে কথা বলব।”
তবে দলের অভ্যন্তরে এই প্রকাশ্য ক্ষোভ এবং পদত্যাগের ঘটনা আলিপুরদুয়ারে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই তুলে ধরছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে দল কিভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার।