লোকসভায় আজ ওয়াকফ বিল নিয়ে ভোটাভুটি, এনডিএ-র হুইপ জারি

আজ বুধবার লোকসভায় বহু প্রতীক্ষিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পাশ করানোর জন্য মরিয়া ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) সরকার।

এই আবহে, বিজেপি মঙ্গলবারই তাদের সমস্ত লোকসভা সাংসদদের জন্য হুইপ জারি করেছে। দলের পক্ষ থেকে সাংসদদের বুধবার সারা দিন লোকসভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হুইপে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে সভায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হবে এবং দলের সকল সদস্যকে সেই বিল পাশ করানোর জন্য সমর্থন ও ভোট দিতে হবে।

উল্লেখ্য, সপ্তদশ লোকসভায় বিজেপির ২৪০ জন সাংসদ রয়েছেন। সরকারের এই বিল পাশ করানো নির্ভর করছে তাদের জোটসঙ্গী জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) এবং তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) সমর্থনের উপর। কারণ মোদী ৩.০ সরকার এই দুটি দলের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এখনও পর্যন্ত লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) প্রকাশ্যে এই বিলের সমর্থন করেনি। একইভাবে জেডিইউ-র অবস্থানও স্পষ্ট নয়। দলের নেতা লালন সিং জানিয়েছেন, তারা লোকসভাতেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

তবে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আত্মবিশ্বাসী যে সরকারের জোটসঙ্গীদের পাশাপাশি বিরোধী দলের কিছু সাংসদেরও সমর্থন রয়েছে এই বিলের প্রতি।

সূত্রের খবর, লোকসভায় এই বিল নিয়ে আট ঘণ্টা ধরে আলোচনা হতে পারে। এরপর সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিতর্কের জবাব দেবেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বাধীন বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির (বিএসি) বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

গত বছর যখন বিলটি পেশ করা হয়েছিল, সরকার এটিকে উভয় কক্ষের যৌথ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সেই রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতে মূল বিলে কিছু পরিবর্তন এনেছে।

বিএসি-র বৈঠকে বিরোধীরা বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য ১২ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করার দাবি জানালে, সরকার কম সময় রাখার পক্ষে সওয়াল করে। শাসকপক্ষের যুক্তি ছিল, এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাজকর্ম সংসদে পরিচালনা করা কঠিন হবে। এই নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতারা সভা থেকে ওয়াকআউট করেন।

যদিও পরে কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের জানান, কিছু দল চার থেকে ছয় ঘণ্টা আলোচনার পক্ষে মত দিলেও, বিরোধীরা ১২ ঘণ্টার দাবিতে অনড় ছিল। স্পিকার আলোচনার জন্য আট ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করেছেন এবং প্রয়োজনে সেই সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলে তিনি জানান। রিজিজু আরও জানিয়েছেন, বুধবার দুপুর ১২টায় প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হলেই তিনি বিলটি আলোচনার জন্য উত্থাপন করবেন। বিরোধীদের আলোচনা এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি।

ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওয়াকফ সম্পত্তিগুলির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আজ লোকসভায় এই বিলের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।