পহেলা এপ্রিল থেকে বাড়ছে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম, পকেট টান সাধারণ মানুষের

২০২৫ থেকে দেশজুড়ে ফের বাড়তে চলেছে একাধিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম। প্রেসার, সুগার, গ্যাস, জ্বর, বমি, রক্ত পাতলা করার ওষুধ, হাঁপানি, সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক রোগের ওষুধ এবং এইডস-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাবে।
ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ) পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির সূচক (WPI) মেনে এই বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। জানানো হয়েছে, ওষুধগুলির দাম গড়ে ১.৭৪ শতাংশ হারে বাড়বে। ২০১৩ সালের কেন্দ্রীয় ড্রাগ প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার (ডিপিসিও)-এর নিয়ম মেনেই এই মূল্যবৃদ্ধির ঊর্ধ্বসীমা ধার্য করা হয়েছে।
মোট ৭৪৮টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এবং সেগুলির বিভিন্ন প্যাকেজিং ও ফর্মুলেশনের উপর এই দাম বৃদ্ধি কার্যকর হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা এই রোগগুলির জন্য ওষুধ সেবন করছেন, তাঁদের পকেটে বাড়তি চাপ পড়বে।
শুধু ওষুধই নয়, পয়লা এপ্রিল থেকে স্টেন্ট-সহ বিভিন্ন কার্ডিয়াক ও অর্থোপেডিক ইমপ্লান্টের দামও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে হৃদরোগ এবং হাড়ের সমস্যায় ভোগা রোগীদের চিকিৎসার খরচও বাড়বে।
এনপিপিএ ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে পয়লা এপ্রিলের পর নতুন বর্ধিত মূল্যের (এমআরপি) ওষুধ বাজারে ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে। একইসঙ্গে পুরনো এমআরপির ওষুধ বাজার থেকে তুলে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই দাম বৃদ্ধির ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক দরিদ্র মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও সরকার এই মূল্যবৃদ্ধি সীমিত রাখার চেষ্টা করেছে, তবুও দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।