“‘নকল’ দার্জিলিং টি ধরতে …?”-BIG STEP নিলো রাজ্য সরকার

দার্জিলিং চায়ের খ্যাতি রক্ষা এবং নকল চা বিক্রির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গে দুটি ল্যাবরেটরি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ল্যাবরেটরির মাধ্যমে নেপাল থেকে আসা নকল দার্জিলিং চা শনাক্ত করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই নেপালের সস্তা চা দার্জিলিং চায়ের নামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে দার্জিলিং চায়ের বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে এবং চা বাগানগুলির অস্তিত্বই বিপন্ন হচ্ছে।
কিভাবে কাজ করবে এই ল্যাবরেটরিগুলি?
এই ল্যাবরেটরিগুলিতে চায়ের গুণগত মান পরীক্ষা করে দেখা হবে। দার্জিলিং চা অর্গানিক, অন্যদিকে নেপালে চা উৎপাদনে কেমিক্যাল সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে চায়ের মধ্যে কেমিক্যালের উপস্থিতি শনাক্ত করা যাবে এবং নকল চা বের করা যাবে।
কোথায় হবে এই ল্যাবরেটরিগুলি?
এই ল্যাবরেটরিগুলি পশ্চিমবঙ্গ-নেপাল সীমান্ত এবং পশ্চিমবঙ্গ-অসম সীমান্তে তৈরি করা হবে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ল্যাবরেটরিগুলি দার্জিলিং চায়ের রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ। এটি নকল চা বিক্রি বন্ধ করতে এবং দার্জিলিং চায়ের খ্যাতি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
চা চাষীদের প্রতিক্রিয়া:
ছোট চা চাষীদের সংগঠন ‘কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’–এর প্রেসিডেন্ট বিজয় গোপাল চক্রবর্তী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই ল্যাবরেটরির মাধ্যমে নকল চা ধরা পড়বে এবং দার্জিলিং চায়ের ক্ষতি কমবে।
কার্শিয়াংয়ের নুরবং টি এস্টেটের চেয়ারম্যান সতীশ মিতরুকার মনে করেন, পানিট্যাঙ্কি বর্ডারে একটি ল্যাবরেটরি তৈরি করা উচিত। কারণ এই বর্ডার দিয়েই নেপালের চা ভারতে ঢোকে।
দার্জিলিং চায়ের রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যে দুটি ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে যার মাধ্যমে নেপালের নকল চা শনাক্ত করা হবে। এই উদ্যোগ দার্জিলিং চায়ের ভবিষ্যতের জন্য একটি আশার আলো জ্বালাবে।