লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সবচেয়ে বড় মাথা খসে পড়ল যুক্তরাষ্ট্রে! হরি বক্সারের গ্রেফতারে তোলপাড় বলিপাড়া!

লরেন্স বিষ্ণোই (Lawrence Bishnoi) অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এক বিরাট সাফল্য পেল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থা। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং হরিয়ানা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) যৌথ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার হরিচান্দ জাট ওরফে ‘হ্যারি বক্সার’-কে। হরিয়ানার মেগা মোস্ট-ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত এই গ্যাংস্টার এতদিন বিদেশে বসেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের তোলাবাজির সুবিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ।
খুন, খুনের চেষ্টা, প্রকাশ্যে গুলি চালানো এবং কোটি কোটি টাকার তোলাবাজিসহ বহু গুরুতর অপরাধমূলক মামলা ঝুলছে তার বিরুদ্ধে। তাকে দ্রুত ভারতে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই (CBI)। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই আমেরিকায় ধরা পড়েছিল হিমাংশু ভাউ এবং নীরজ ফরিদপুরিয়া নামের আরও দুই ডন।
রোহিত শেট্টির বাড়িতে হামলা ও বলিউডে হুমকি
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বলিমহল কাঁপিয়ে খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক রোহিত শেট্টির (Rohit Shetty) মুম্বইয়ের বাসভবনের বাইরে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল এই হ্যারি বক্সারই। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং অডিও মেসেজের মাধ্যমে একাধিক বলিউড তারকাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সে।
একটি ভাইরাল অডিও রেকর্ডিংয়ে ‘আরজু বিষ্ণোই’ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে আত্মপ্রকাশ করে হ্যারি বক্সার ও শুভম লোনকারের নাম উল্লেখ করে শেট্টির বাড়ির হামলার দায় নিয়েছিল। সে সময় হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল, “বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাজে হস্তক্ষেপ না করার জন্য রোহিতকে বারংবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সে কথা শোনেনি। এটি স্রেফ একটি ছোট ট্রেলার ছিল।” এরপরই অন্যান্য বি-টাউন তারকাদের প্রতিও একই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
কপিল শর্মা ও রণবীর সিংকে কড়া নজরদারিতে হুমকি
শুধু রোহিত শেট্টিই নয়, কানাডায় জনপ্রিয় কমেডিয়ান কপিল শর্মার ক্যাফেতে গুলি চালানোর পেছনেও উঠে এসেছে এই হ্যারি বক্সারের নাম। এছাড়া বলিউড তারকা রণবীর সিং (Ranveer Singh) এবং তুষার কাপুরকে হুমকি দেওয়ার পেছনেও তার সরাসরি হাত ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
দিল্লি, রাজস্থান, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা— একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা তার এই বিশাল গ্যাংয়ের মাধ্যমে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের থেকে তোলা আদায়ের কাজ নির্বিঘ্নে চালাত হ্যারি।
বক্সিং রিং থেকে কীভাবে অন্ধকার জগতে?
মূলত রাজস্থানের কোটপুতলি-বেহরের জেলার বামসুর এলাকার বাসিন্দা এই হ্যারি। জয়পুরে থাকার সময় সে পেশাদার বক্সিংয়ের কঠোর প্রশিক্ষণ নেয় এবং সেখান থেকেই তার নাম হয় ‘হ্যারি বক্সার’। অপরাধ জগতে পা রাখার আগে সে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং একটি সংস্থায় বক্সিং কোচের কাজও করত।
তবে অতি অল্প সময়েই সে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ে যোগ দেয় এবং খুব দ্রুত এই দলের অন্যতম প্রধান রূপকার ও তোলাবাজি চক্রের মাফিয়া হয়ে ওঠে। বিদেশে বসে এনক্রিপ্টেড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্যাংয়ের কার্যকলাপ তদারকি করা এবং ভারত ও বিদেশে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা তোলাই ছিল তার মূল কাজ। ক্যালিফোর্নিয়ায় তার গ্রেফতারির ফলে আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার নেটওয়ার্কে চরম ধস নামল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।