দ্বিতীয় ওভার থেকেই প্যাড পরে তৈরি থাকত গোটা দল! গম্ভীরের জাদুকরি কোচিংয়ে কীভাবে বদলে গিয়েছিল কেকেআরের ড্রেসিংরুম?

কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর ড্রেসিংরুমে মেন্টর গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) অদম্য প্রভাব ও কোচিং স্টাইল নিয়ে সম্প্রতি এক বিরাট ও চমকপ্রদ তথ্য ফাঁস করলেন তারকা ক্রিকেটার ভেঙ্কটেশ আইয়ার। ২০১২ ও ২০১৪ সালে কেকেআরকে ট্রফি দেওয়া গম্ভীর ২০২৪ সালে মেন্টর হিসেবে দলে ফিরতেই বদলে গিয়েছিল গোটা দলের মানসিকতা। আর তাঁর জাদুকরীতেই নাইটরা ঘরে তোলে তাদের তৃতীয় আইপিএল ট্রফি। এবার সেই সাফল্যের নেপথ্যের গল্প শোনালেন আইয়ার।

‘দ্বিতীয় ওভার থেকেই প্যাড পরে তৈরি থাকত সবাই!’
প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে ভেঙ্কটেশ আইয়ার কেকেআর ড্রেসিংরুমের রুদ্ধশ্বাস পরিবেশের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, সুনীল নারিন ও ফিল সল্ট ওপেন করতে নামার পর থেকেই ডাগআউটের বাকি ব্যাটাররা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকতেন।

আইয়ারের ভাষায়, “আমাদের দুই ওপেনার নারিন ও সল্ট ব্যাট করতে যাওয়ার পর থেকেই অঙ্গকৃষ রঘুবংশী প্যাড পরে বসে থাকত। আর আমরা বাকিরা— আমি, শ্রেয়স আইয়ার, নীতীশ রানা, রিঙ্কু সিং, রমনদীপ ও আন্দ্রে রাসেল— ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক দ্বিতীয় ওভার থেকেই প্যাড পরে তৈরি থাকতাম। সবার মনে একটাই তাগিদ থাকত, কখন ডাক আসবে!”

তিনি আরও যোগ করেন, “ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক দারুণ সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল। ডাগআউটের পরিবেশ দেখে মনে হতো সবাই যেন শিকারের অপেক্ষায় থাকা ক্ষুধার্ত সিংহ। সবাই বলত— ‘শুধু আমাদের একবার মাঠে পাঠাও, বাকিটা আমরা দেখে নেব!’ যদিও ঈশ্বরের কৃপায় সল্ট ও নারিন এত দীর্ঘ সময় ব্যাট করতেন যে আমাদের অনেকেরই নামার সুযোগ আসত না।”

গম্ভীরের কড়া নির্দেশ ও ডাগআউটের সমীকরণ
খেলার পরিস্থিতি অনুযায়ী ডাগআউট থেকে গম্ভীরের কৌশল কীভাবে বদলাতো, তাও তুলে ধরেছেন আইয়ার। তিনি জানান, খেলা এগোতেই গম্ভীর ড্রেসিংরুম থেকে ম্যাচের রীতিনীতি ও কম্বিনেশন নিয়ে নির্দেশ পাঠাতেন।

“ওপেনাররা বেশ কিছুক্ষণ টিকে থাকলে গম্ভীর স্যার দূর থেকে বলতেন— ‘অঙ্গকৃষ, এবার ভেঙ্কি যাবে।’ আমি তৎক্ষণাৎ মেন্টাল ও ফিজিক্যালি রেডি হয়ে যেতাম। যদি আরও দু’ওভার উইকেট না পড়ত, তখন বলতেন— ‘লেফট-রাইট কম্বিনেশন দরকার, ভেঙ্কি আর শ্রেয়স তোমরা তৈরি হও।’ এমনকি পরিস্থিতি অনুযায়ী রাসেলকে নামানোর প্লেনও তৈরি থাকত। আমাদের সবসময় হাই অ্যালার্টে থাকতে হতো।”

‘গ গম্ভীরের উপস্থিতিতে সাধারণ মানের কোনো জায়গা ছিল না’
দলের এই আক্রমণাত্মক মানসিকতার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব গম্ভীরকেই দিয়েছেন ভেঙ্কটেশ। তাঁর মতে, মেন্টরের কড়া অথচ আস্থার পরিবেশ খেলোয়াড়দের মনে কোনো ভয় রাখেনি, তবে একই সঙ্গে পারফরম্যান্সের মান নিয়ে কোনো আপসও বরদাস্ত করা হতো না।

স্পষ্ট ভাষায় আইয়ার বলেন, “গম্ভীর ঠিক আমাদের পাশেই বসে থাকতেন। খেলোয়াড়দের মনে ব্যর্থতার কোনো ভয় ছিল না, কিন্তু সবাই জানত যে এখানে সাধারণ বা গড়পড়তা (Average) পারফরম্যান্সের কোনো জায়গা নেই। আপনি কোনো ঢিমেতালে বা বাজে শট খেলে এসে ওনার পাশে বসতে পারবেন না। সেটা অসম্ভব ছিল!”

কোনো বড় বা লম্বা নিয়মকানুন বা আইনের বেড়াজাল ছাড়াই গম্ভীরের ব্যক্তিত্ব ও প্রত্যাশাই গোটা দলের শরীরী ভাষা বদলে দিয়েছিল। আর সেই আগ্রাসী মানসিকতার ফল হাতেনাতে পেয়েছিল দল, যা কেকেআরকে এনে দিয়েছিল তাদের ঐতিহাসিক তৃতীয় আইপিএল খেতাব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *