চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ৪টি কামরায় মুহূর্তে ছড়াল আগুন, রাজপুরায় চরম আতঙ্কে কাঁপল যাত্রীরা

পাঞ্জাবের রাজপুরার কাছে সরাই বঞ্জরার কাছাকাছি এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল কর্মভূমি এক্সপ্রেস। অমৃতসর থেকে নিউ জলপাইগুড়িগামী ১২৫০৮ ডাউন কর্মভূমি এক্সপ্রেসটি যখন সশব্দে ছুটে চলছিল, তখনই হঠাৎ একটি কোচে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনের অন্তত ৪টি কামরায়। চলন্ত ট্রেনে এমন বিধ্বংসী আগুন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন।

খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল ও দমকলের ইঞ্জিন। প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও ট্রেনের আগুন ও ধোঁয়ার বিশাল গুবার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। দমকলকর্মীদের কঠোর প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিটের কারণেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

হঠাৎ আগুন ও ঘটনার সময়ের ক্রম
রেল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাজপুরা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বসন্তপুরা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ট্রেনটি চলাকালে হঠাৎই ট্রেনের ইঞ্জিনের দিক থেকে ৫ নম্বর কোচে আগুন লাগার খবর পান লোকো পাইলট।

পরিস্থিতি জটিল হতে দেখে তড়িঘড়ি ট্রেনটির গতি কমিয়ে মধ্য সারহিন্দ-রাজপুরার মাঝখানে সরাই বঞ্জরা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে সেটিকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ট্রেনটি বসন্তপুরা রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল ৪টি কোচে, তবে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে কোনো বড় ধরনের প্রাণহানির খবর নেই।

লোকো পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধি ও যাত্রীদের সূঝবূঝ
এই বিশাল বিপর্যয়ের হাত থেকে যাত্রীদের বাঁচানোর নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন ট্রেনের লোকো পাইলট। সামান্যতম আগুনের ফুলকি ও ধোঁয়া চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রেন থামিয়ে দেন।

একইসঙ্গে ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীরাও চরম বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। কোচে ধোঁয়া ঢুকতেই তারা আতঙ্কে দিশাহারা না হয়ে দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে ট্রেন থেকে নিচে নেমে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। যাত্রীদের এই সময়োচিত পদক্ষেপ এবং লোকো পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধির ফলেই এক নিশ্চিত ধ্বংসাত্মক বড় সড়ক রেল দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও তদন্তের নির্দেশ
অমৃতসর থেকে পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া এই ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ফলে বিস্তর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক খবরে কয়েকজন যাত্রী সাময়িকভাবে সামান্য আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেলেও, মারাত্মক কোনো হতাহতের খবর এখনো মেলেনি।

রেল প্রশাসনের তরফ থেকে গোটা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিক কীভাবে এবং কোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শর্ট সার্কিট ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারেরা। ঘটনাটি ঘিরে ওই লাইনে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *