“আর কতদিন ভয়ে বাঁচব?” তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও কেন এতটুকু দলেন না প্রকাশ রাজ?

রূপোলি পর্দার সফল অভিনেতা ছাড়াও তাঁর একটি কড়া রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। বরাবরই দেশের সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে সরব থাকতে দেখা গিয়েছে অভিনেতা প্রকাশ রাজকে (Prakash Raj)। ন্যাশনাল এলিজিগিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ড হোক কিংবা রাজপথে প্রতিবাদ—সব জায়গাতেই প্রথম সারিতে থাকেন তিনি। কিন্তু স্বামীর এই স্পষ্টবাদী ও আপসহীন স্বভাবের জেরে পরিবারকে কতটা মানসিক আতঙ্ক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে, তা নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী পনি ভার্মা (Pony Verma)। সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর তাঁদের মনে কীভাবে ভয়ের পাহাড় জমেছিল, সেকথাও খোলামেলা জানিয়েছেন তিনি।
গৌরী লঙ্কেশের খুন ও আতشঙ্কের দিনগুলি
স্বামীর রাজনৈতিক সরব হওয়া নিয়ে বলতে গিয়ে পনি জানান, গোড়ার দিকে তিনি নিজেও দারুণ আতঙ্কিত থাকতেন। বিশেষ করে সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁরা দুজনেই ভেঙে পড়েছিলেন। গৌরী লঙ্কেশের মতো স্পষ্টবাদী স্বভাব নিয়ে প্রকাশ আগেও চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু গৌরীজির মৃত্যুর পর প্রকাশের মধ্যে এক বিরাট মানসিক পরিবর্তন আসে।
পনি জানান, প্রকাশ একদিন তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, “আমরা আর কত দিন ভয়ের মধ্যে বাঁচব?” স্বামীর এই আত্মবিশ্বাস ও নির্ভীক মানসিকতাই পনির মনের ভয় ধীরে ধীরে কাটিয়ে দেয়। পনির গর্বিত স্বীকারোক্তি, তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একাধিকবার প্রকাশকে নিষিদ্ধ করা হলেও তিনি নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের জায়গা থেকে একচুলও সরে আসেননি।
রাজনৈতিক মতামতের জেরে বিশাল পেশাগত ক্ষতি
চলচ্চিত্র জগতের বহু তারকাই যখন রাজনৈতিক বিষয়ে মুখ খুলতে ভয় পান বা নিজেদের কেরিয়ার সুরক্ষিত রাখতে চান, তখন প্রকাশ রাজ ছিলেন ব্যতিক্রম। পনি দাবি করেছেন, নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রকাশকে বড় ধরনের পেশাগত মূল্য চোকাতে হয়েছে। তাঁর বহু ছবির কাজ এবং লোভনীয় বিজ্ঞাপনের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। এমনকী প্রযোজকরা অগ্রিম টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরেও রাজনৈতিক চাপের মুখে ছবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন!
তবে ইন্ডাস্ট্রির অন্য অভিনেতাদের ওপর কোনো ক্ষোভ নেই পনির। তাঁর মতে, অনেকে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকায় তাঁদের পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু প্রকাশের উদ্বেগের মূল জায়গাটি একান্তই সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা। পনির কথায়, “ও শুধু চায় দেশের প্রতিটি কোণায় ভালো হাসপাতাল ও স্কুল গড়ে উঠুক। কিন্তু দেশের অন্য বিষয়গুলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ওর এই আদর্শের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করতে পারি না।”
চলচ্চিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রকাশ রাজ আজ অনেকের কাছেই হিরো, আর তাঁর এই পথচলায় ছায়ার মতো পাশে থাকার কথা এভাবেই তুলে ধরলেন তাঁর জীবনসঙ্গী পনি ভার্মা।