দীপাবলির আগেই ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট উধাও? বাজারে ক্যাশ ক্রাইসিস নিয়ে ভাইরাল মেসেজের আসল সত্যিটা কী?

উৎসবের মরশুমে কেনাকাটা থেকে শুরু করে ছোটখাটো লেনদেন—সবক্ষেত্রেই ১০, ২০ ও ৫০ টাকার খুচরো নোটের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। ঠিক দীপাবলির আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয় যে, উৎসবের বাজারে বাজারে মারাত্মকভাবে দেখা দিতে পারে ছোট অঙ্কের এই নোটগুলির ঘাটতি। এমনকী, এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তিও হু হু করে ভাইরাল হয় হোয়াটসঅ্যাপে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই আতঙ্ককে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে উড়িয়ে দিল খোদ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দেশে ছোট নোটের কোনো অভাব নেই।
ভাইরাল হওয়া ভুয়া বিজ্ঞপ্তির আসল রহস্য
সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিজ্ঞপ্তিটি ভাইরাল হয়েছিল, সেটির তারিখ দাবি করা হয়েছিল ২৭ অক্টোবর, ২০২৬। সেখানে যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে, দেশজুড়ে ডিজিটাল লেনদেন হু হু করে বেড়ে যাওয়ার কারণে ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার নোট ছাপানো নাকি ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে ব্যাঙ্ক। আর সেই কারণেই দীপাবলির বাজারে ছোট নোটের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে। এমনকি ওই ভুয়া চিঠিতে আরবিআই-এর লোগো ও গভর্নরের নামের নকল স্বাক্ষরও ব্যবহার করা হয়েছিল।
কী জানাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)?
এদিন আরবিআই-এর পক্ষ থেকে এক স্পষ্ট বার্তায় জানানো হয়েছে, একশ্রেণির অসাধু চক্র ফায়দা লুটতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নাম ও লোগো অপব্যবহার করে এই বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছে।
-
প্রচুর মজুত রয়েছে: আরবিআই-এর ভল্ট এবং দেশের সমস্ত কারেন্সি চেস্টে ১০, ২০ এবং ৫০ টাকা সহ সব ধরনের মুদ্রার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
-
আতঙ্কের কোনো কারণ নেই: ছোট নোট মিলবে না ভেবে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়া বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নগদ টাকা তোলার কোনো প্রয়োজন নেই।
-
সতর্ক থাকার পরামর্শ: কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের যাচাই না করা খবর বা ভুয়া বিজ্ঞপ্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। সবসময় আরবিআই-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড হ্যান্ডেলের তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন।
দীপাবলির কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝে এই ভুয়া খবরের জেরে সাধারণ মানুষের মনে যে দানা বাঁধছিল, আরবিআই-এর এই কড়া ও স্পষ্ট পদক্ষেপে সেই ধোঁয়াশা এখন পুরোপুরি কেটে গিয়েছে।