অনলাইনে বাজি কিনলেই বিপদ! দীপাবলির আগে চরম হুঁশিয়ারি শীর্ষ আদালতের, নির্দেশ মানতেই হবে ৭-৮ নভেম্বর

দীপাবলির উৎসবে দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য শর্তসাপেক্ষ সাময়িক স্বস্তির বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে কেবল সিএসআইআর (CSIR-NEERI) অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব বাজি বা ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ পোড়ানোর ছাড়পত্র দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে এই সুযোগ মিলবে মাত্র দু’দিনের জন্য। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে পুনরায় বায়ুদূষণ রোধে বাজি পোড়ানোর ওপর সর্বাত্মক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি বরালের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ জারি করে।

⏰ সময়সীমা ও বিধিনিষেধ: কখন ও কোথায় পোড়ানো যাবে বাজি?

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর কেবল সকাল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত (১ ঘণ্টা) এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত (২ ঘণ্টা)—অর্থাৎ দিনে সর্বমোট ৩ ঘণ্টা সময় বাজি ফাটানো যাবে। তবে নির্দিষ্ট সময় পার হলে বা সাধারণ বাজি পোড়ালে কড়া আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে।

কোথায় কোথায় বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ:

  • সাইলেন্স জোন: হাসপাতাল, নার্সিংহোম, প্রাথমিক ও জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম এবং প্রশাসন কর্তৃক চিহ্নিত সমস্ত নীরব বা সংরক্ষিত অঞ্চলের অন্তত ৩০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি।

  • স্কুল-কলেজ এলাকা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বাজি ফাটানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

🏬 বিক্রেতা ও প্রস্তুতকারকদের জন্য কড়া শর্তাবলী

অনলাইনে বাজি কেনাবেচার ওপর সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বলবৎ থাকছে। তবে স্থানীয় বিক্রেতা ও প্রস্তুতকারকদের জন্য কিছু সাময়িক শর্তসাপেক্ষ ছাড় ঘোষণা করেছে বেঞ্চ:

  • লাইসেন্স পুনর্বহাল: যে সমস্ত বৈধ বিক্রেতাদের লাইসেন্স আগে বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছিল, তাঁরা আগামী ৪ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সাময়িকভাবে পুনরায় লাইসেন্স চালু করার আবেদন করতে পারবেন।

  • আর্থিক জামানত বাজেয়াপ্তের নির্দেশ: বাজি প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অংকের মোটা জামানত নেওয়া হবে। বিধি লঙ্ঘন করলে বা নিরি (NEERI) অনুমোদিত গ্রিন ক্র্যাকার্স ছাড়া অননুমোদিত/বেরিয়ামযুক্ত বাজি বিক্রি করলে তৎক্ষণাৎ লাইসেন্স বাতিল এবং সেই জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

  • সিল্ড প্যাক বাধ্যতামূলক: প্রস্তুতকারকদের বাজির বাক্স সম্পূর্ণভাবে সিল করে বিক্রি করতে হবে, যাতে সাধারণ বা বেআইনি বাজি মেশানো না যায়। এমনকি একাধিক বাজি জোড়া দিয়ে বানানো ‘বাজির মালা’ তৈরি বা বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

⚖️ প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

আদালত মেনে নিয়েছে যে, বাজি পোড়ানোর কারণে বায়ু ও শব্দদূষণ যেমন মারাত্মক স্তরে পৌঁছায়, ঠিক তেমনই অতিরিক্ত কঠিন বর্জ্যের সৃষ্টি হয়। তবে বেঞ্চের মতে, সমস্যা কেবল আইন ও বিধিনিষেধ প্রণয়নে নয়, বরং প্রশাসনের কার্যকর প্রয়োগের অভাব।

দীপাবলির ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আবেগের মর্যাদাকে স্বীকৃতি দিলেও আদালতের বার্তা পরিষ্কার—“উৎসবের আনন্দের নামে পরিবেশের এমন কোনো ক্ষতি করা মেনে নেওয়া যায় না, যা মানুষ ও জীবকুলের স্বাস্থ্যকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।”

অবৈধ বাজি কেনাবেচা রুখতে দিল্লি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে যৌথ স্পেশাল স্কোয়াড বা নজরদারি দল গঠন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সমস্ত নির্দেশ ঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ১৬ ডিসেম্বরের পরবর্তী শুনানির আগেই অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা করবে সুপ্রিম কোর্ট।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *