‘দল বসতে বললে বসব, তবে…’ ব্যারাকপুরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জল ঢেলে কোন বড় বার্তা দিলেন বিজেপি বিধায়ক?

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের ‘চলো দিল্লি’ এবং ভোটচুরির অভিযোগের কর্মসূচির ঠিক পরেই এবার দেশজুড়ে জোরালো পাল্টা আক্রমণ শানাতে আসরে নামল গেরুয়া শিবির। দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ প্রতিবাদ যাত্রা। আর এই কর্মসূচিকেই সামনে রেখে সোমবার কলকাতার রাজপথে আয়োজিত হলো বিজেপির এক বিশাল ও হাই-ভোল্টেজ মিছিল। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে অন্যান্য হেভিওয়েট নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই পরিচিত মুখ—বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী এবং অর্জুন সিং।

অর্জুন-কৌস্তভ দ্বন্দ্ব ও ব্যারাকপুরের অন্দরের সমীকরণ: সাম্প্রতিক সময়ে ব্যারাকপুর রাজনীতির অন্দরে অর্জুন সিং এবং কৌস্তভ বাগচীর মধ্যকার শীতল যুদ্ধ ও মতপার্থক্য নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। মূলত একটি বিশেষ ছবিকে কেন্দ্র করে দুই নেতার এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল। এদিন কলকাতার মিছিলে দুই নেতা একসঙ্গে উপস্থিত থাকার পর সেই পুরনো প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আর এই বিষয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কৌস্তভ বাগচী।

কী বললেন কৌস্তভ বাগচী? বিতর্ক ও দ্বন্দ্বের সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কৌস্তভ সাফ জানিয়ে দেন যে তাঁর কাছে দলের অনুশাসনই সবথেকে বড়। তিনি বলেন, “আমার কাছে সংগঠন সর্বপরি। দল আমাকে বিধায়ক করেছে, দল আমাকে যে পরিমাণ সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছে, আমি তার কাছে সারা জীবন কৃতজ্ঞ। দল আমাকে উঠতে বললে উঠব, বসতে বললে বসব। আমি আবারও বলছি, ভালোবাসা বা আন্তরিকতার কাছে আমি মাথা নত করব।”

তবে এর সঙ্গেই প্রতিপক্ষ বা নিজের দলের অভ্যন্তরীণ সমালোচকদের উদ্দেশ্যে এক কড়া বার্তাও দেন এই বিজেপি বিধায়ক। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি চোখ রাঙানির কাছে আগেও কখনো মাথা নত করিনি, আজকেও করব না। আমার তো কারোর হাত ধরতে কোনো অসুবিধা নেই, বিশেষ করে আমার বাবার বয়সী কোনো প্রবীণ নেতার হাত ধরায় সম্মান বই অসম্মান নেই। কিন্তু আমি পরিষ্কার বলছি, ভালোবাসা বা আন্তরিকতার কাছে নতজানু হতে জানি, কোনো জোরজুলুম বা চোখ রাঙানিতে মাথা নোয়ানো আমার স্বভাবে নেই।”

দলের অন্দরের সমালোচকদের নিশানা করে কৌস্তভ আরও বলেন, “আমার দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো শীর্ষ নেতা আমার বিরুদ্ধে একটিও খারাপ কথা বলেননি। যাঁরা বাইরে থেকে বা দলের ভেতর থেকে কথাগুলো বলছেন, সেগুলি আসলে তাঁদের নিজেদের কথা নয়, তাঁরা অন্যের বুলি আওড়াচ্ছেন। সঠিক সময়ে দল সব ব্যবস্থা নেবে। আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর পুরো ভরসা রাখি।”

দিল্লির রামলীলা ময়দানের পাল্টায় কলকাতার এই রাজপথের মিছিল এবং দলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে কৌস্তভের এই বিস্ফোরক মন্তব্য যে তিলোত্তমার রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *