চাকরির মিথ্যে লোভ আর ২০ হাজারে বিক্রি! ৫০ বছরের বৃদ্ধের কবল থেকে কিশোরীর অবিশ্বাস্য পালানোর গল্প

চাকরির লোভ দেখিয়ে গ্রাম থেকে এক কিশোরীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে রাজস্থানে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শুধু তাই নয়, ৫০ বছরের এক প্রৌঢ়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিয়ে ওই কিশোরীকে ঘরে বন্দি করে রেখে লাগাতার যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তবে চরম প্রতিকূলতা ও ভয়কে জয় করে অবশেষে নিজের বুদ্ধি ও সাহসিকতায় বন্দিদশা থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন ওই নির্যাতিতা কিশোরী।

কীভাবে ফাঁদে পড়েছিল কিশোরী? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলার বিশুনপুর থানা এলাকার এক গ্রামের বাসিন্দা ওই কিশোরী। চলতি বছরের জুলাই মাসে তাঁরই গ্রামের যাত্রী ওরাওঁ নামের এক মহিলা ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে প্রথমে দিল্লি নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর সুনিতা লোহারা নামের অপর এক মহিলার হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে একটি বাংলোতে কাজে রাখলেও কিছুদিন পর তাঁকে রাজস্থানে পাচার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, রাজস্থানে নিয়ে যাওয়ার পর ৫০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির সঙ্গে জোর করে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। গোপনীয়তা বজায় রেখে বন্ধ দরজার আড়ালে এই ‘বিয়ে’র অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যেখানে লোকদেখানো কিছু আচার-অনুষ্ঠানও করা হয়। এই মানবপাচারের বিনিময়ে প্রধান পাচারকারী সুনিতা লোহারা হাতবদল করে ২০ হাজার টাকা পেলেও, ওই কিশোরীকে আসলে কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় সে।

অকথ্য নির্যাতন ও বন্দিদশা: বিয়ের পর সুনিতা সেখান থেকে চলে গেলেও শুরু হয় আসল নরকযন্ত্রণা। ওই বৃদ্ধ ব্যক্তির একটি মুরগির দোকান ছিল। দোকানে যাওয়ার সময় সে ঘরের বাইরে তালাবন্ধ করে রেখে যেত এবং গভীর রাতে বাড়ি ফিরত। ঘরে ফিরে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হতো। প্রতিবাদ করলেই নেমে আসত অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। দিনের পর দিন চরম আতঙ্ক ও অন্ধকূপে বন্দি জীবন কাটাতে বাধ্য হন ওই কিশোরী।

সাহসিকতার সঙ্গে পালিয়ে ঘরে ফেরা: তবে হার মানেনি কিশোরীটি। একদিন ওই বৃদ্ধ একটু আগে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন এবং ভুলবশত ঘরের দরজা বাইরে থেকে পুরোপুরি আটকে দিতে ভুলে যান। এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া না করে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। ‘মুখ দেখানো’র অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে পাওয়া মাত্র দুই হাজার টাকা তাঁর কাছে জমানো ছিল। সেই সামান্য টাকা সম্বল করেই রাজস্থান থেকে দিল্লি, দিল্লি থেকে রাঁচি এবং সেখান থেকে বহু কষ্টে নিজের বাড়িতে পৌঁছান তিনি।

পরিবারের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলার পর প্রথমে বিশুনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশের তরফে উপযুক্ত পদক্ষেপ না করায় পরবর্তীতে আহাতু থানায় ফের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এই জঘন্য মানবপাচার এবং গ্রামীণ এলাকার নাবালিকাদের সুরক্ষা নিয়ে এখন গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার বিষয়ে এসডিপিও সুরেশ প্রসাদ যাদব জানান, “বিষয়টি পুলিশের সম্পূর্ণ নজরে এসেছে। সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে অবিলম্বে কঠোর তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *