ইডেনে শামির বোলিং ঝড় আর অন্ধ্রপ্রদেশের ঘূর্ণীঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে জমে গেল রনজি ম্যাচ! নাটকীয় মোড়ে বাংলা বনাম মহারাষ্ট্র

অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার পরোক্ষ প্রভাবে কলকাতার আকাশে ঘন মেঘের আনাগোনা। আর সেই মেঘলা আবহাওয়া ও কম আলোর জেরে সোমবার রনজি ট্রফির চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই খেলা বন্ধ করতে বাধ্য হলেন আম্পায়াররা। তবে তার আগেই ইডেন গার্ডেন্সে নিজের পেস ও সুইংয়ের ম্যাজিকে ত্রাস সৃষ্টি করলেন ভারতের তারকা পেসার মহম্মদ শামি। দিনের শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলার মাত্র ১৪৩ রানের পুঁজি নিয়ে লড়াইয়ে ফেরার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়ে রইল।
ইডেনে বাংলার লজ্জার ব্যাটিং ধস: জয়ের হ্যাটট্রিক করে চতুর্থ ম্যাচে নামলেও বাংলার শুরুটা হলো একেবারে দুঃস্বপ্নের মতো। প্রায় এক বছর পর ঘরের মাঠে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। টস জিতে প্রথমে বাংলাকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের অধিনায়ক। ইডেনের সবুজ উইকেটে প্রথম সেশনের বাড়তি বাউন্স ও সুইং পুরোপুরি কাজে লাগান মহারাষ্ট্রের পেসাররা। একটা সময় মনে হচ্ছিল একশো রানও পার করতে পারবে না বাংলা।
মাত্র ৩৬.৫ ওভারে মাত্র ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলার প্রথম ইনিংস। অভিষেক পোড়েল (৫৪) এবং প্রদীপ্ত প্রামাণিক (৩১) হাল না ধরলে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হতে পারত। মহারাষ্ট্রের বোলারদের মধ্যে প্রদীপ দাধে ও তনয় সাঙ্ঘভি ৩টি করে উইকেট নেন। রাজবর্ধন হাঙ্গরগেকর ও সিদ্ধেশ বীর শিকার করেন ২টি করে উইকেট। গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শাহবাজ আহমেদ এদিন শূন্য রানে আউট হন। তবে দলের চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে ৬৭ বলে ৮টি চারে সাজানো অভিষেক পোড়েলের ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস এবং অষ্টম উইকেটে প্রদীপ্তকে সঙ্গে নিয়ে ৬৬ রানের জুটি কিছুটা মান বাঁচায়।
শামির আগুন ঝরানো স্পেল ও খেলা বন্ধ: মাত্র ১৪৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় মহারাষ্ট্র। বাংলার পেস অস্ত্র মহম্মদ শামি যেন উইকেটে নামতেই আগুন ঝরাতে শুরু করেন। মহারাষ্ট্রের ইনিংসের মাত্র ৭ ওভারের মাথায় প্রথম দুই বলে পৃথ্বী শ (১২) এবং দিগ্বিজয় পাতিল (০)—দুজনেই শামির মারাত্মক লেগ বিফরের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
মহারাষ্ট্র যখন ৮ ওভারে ২ উইকেটে ২১ রান তুলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই অন্ধ্রপ্রদেশের ঝড়ের প্রভাবে কলকাতার আকাশে আলো কমে যাওয়ায় আম্পায়াররা খেলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ক্রিজে তখন অপরাজিত রয়েছেন অঙ্কিত বাওনে (২) এবং সিদ্ধেশ বীর (৭)। শেষ পর্যন্ত কম আলোর কারণে আর খেলা শুরু করা যায়নি।
ম্যাচের শেষে ইডেনে উপস্থিত থেকে বাংলার খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগাতে দেখা যায় মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে, এমনকি তিনি পৃথ্বী শ-র সঙ্গেও কথা বলেন। মঙ্গলবার সকালেও মেঘলা আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শামির নেতৃত্বাধীন বোলিং আক্রমণ যদি শুরুতেই মহারাষ্ট্রের বাকি ব্যাটারদের গুঁড়িয়ে দিতে পারে, তবে বাংলার ব্যাটারদের এই ব্যর্থতা ঢাকতেও বেশি সময় লাগবে না!