মজুরি বোর্ডের ঘোষণার পরও থমথমে ঢাকা! সড়ক অবরোধ-ভাঙচুরের নেপথ্যে মেগা চক্রান্তের অভিযোগ সচিবালয়ে

ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোসহ একাধিক জরুরি দাবিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জসহ শিল্পাঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়া পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন সোমবার আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করল। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় রাজপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন হাজার হাজার তৈরি পোশাককর্মী। একাধিক স্থানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তুমুল সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জ্বালাও-পোড়াও ও কারখানা ছুটি ঘোষণা: বিক্ষোভের চরম পর্যায়ে কয়েকটি জায়গায় সাধারণ যানবাহন ভাঙচুর করার পাশাপাশি পুলিশের গাড়ি ও গণপরিবহনে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং বড় ধরনের সহিংসতা এড়াতে সোমবার ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকাগুলির কয়েক শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানায় তড়িঘড়ি ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অ্যাকশনে নেমেছে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও শ্রমিকদের এই মারমুখী আন্দোলন স্তিমিত করা সম্ভব হয়নি।
সচিবালয়ে জরুরী বৈঠক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি: তৈরি পোশাক খাতের এই নজিরবিহীন অস্থিরতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার বাংলাদেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন দেশের স্বরাষ্ট্র ও শ্রমমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি সরাসরি দাবি করেন, “পোশাক শ্রমিকদের এই আচমকা ক্ষোভ ও আন্দোলনের পেছনে সাধারণ শ্রমিকরা একা নেই। এর নেপথ্যে কিছু অসাধু শিল্পমালিক এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী প্রত্যক্ষভাবে ইন্ধন জুগিয়ে দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন।”
এমনকি বেশ কয়েকজন শীর্ষ শ্রমিক নেতাও সুর মিলিয়ে স্বীকার করেছেন যে, এই আন্দোলনে সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে বাইরে থেকে সুবিধা নেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
মজুরি বোর্ড গঠনের পরও কাটেনি মেঘ: উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন বস্ত্রখাতের শ্রমিকরা। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ‘মজুরি বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেই ঘোষণার পরও বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা না কমায় গোটা শিল্পাঞ্চলজুড়ে এখন মারাত্মক শঙ্কা ও থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে।