“বাংলা লুট করেছো, জীবন দিয়ে দেব কিন্তু ছাড়ব না!” রামলীলা ময়দান থেকে মোদী-কমিশনকে চরম হুঁশিয়ারি মমতার

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান থেকে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের মেগা প্রতিবাদ সভা থেকে কার্যত গর্জে ওঠেন তিনি। নির্বাচন কমিশন ও শাসকদলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বাংলা লুট করা হয়েছে। আমি জীবন দিয়ে দেব, কিন্তু কাউকে ছেড়ে কথা বলব না।” একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে ‘সেভ ইন্ডিয়া, সেভ ডেমোক্রেসি’ (Save India, Save Democracy)-র জোরদার স্লোগান তোলেন তিনি।
“ভ্যানিশ কুমারকে চাই? নো পাপা!”—প্যারোডিতে তোপ মমতার
প্রতিবাদ সভা চলাকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের একবার ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করতেই উপস্থিত বিশাল জনসমুদ্র উল্লাসে ফেটে পড়ে। উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ তাঁর সঙ্গে গলা মেলায়। এসআইআর (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “এই প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপের কারণে গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়েছে বাংলা।”
কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে নজিরবিহীন তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশের লোকতন্ত্র ও সংবিধানকে সুপরিকল্পিতভাবে লুট করা হয়েছে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের চাকরি, জীবন এবং মা-বোনেদের সম্মান।” এমনকি ছোটদের জনপ্রিয় ছড়া ‘জনি জনি ইয়েস পাপা’-র ধাঁচে প্যারোডি তৈরি করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। মমতার মুখে “বিজেপি কো চাইয়ে? নো পাপা! ভ্যানিশ কো চাইয়ে? নো পাপা!” স্লোগান শুনতেই হাততালির ঝড় ওঠে পুরো ময়দানে। পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন শাসকদল বিজেপির ক্যাডার হিসেবে কাজ করছে বলেও সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।
“জীবনের বিনিময়ে হলেও বদলা নেব”
বিজেপিকে কেন্দ্র ও বাংলা থেকে পুরোপুরি হটিয়ে দেওয়ার ডাক দিয়ে মমতা হুঙ্কারের সুরে বলেন, “আমরা নির্বাচনে হারিনি, আমাদের চক্রান্ত করে জোর করে হারানো হয়েছে। বিজেপি বাংলাকে সুপরিকল্পিতভাবে লুট করেছে। তাই এদের যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা থেকে সরাতেই হবে।”
বিজেপির বহুল প্রচারিত ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানকে খোঁচা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “ওদের আসল স্লোগান হলো ‘বিজেপি কো সাথ, সবার সর্বনাশ’।” SIR ইস্যুতে আন্দোলন ও আইনি লড়াই জারি রাখার অঙ্গীকার করে জেন-জি (Gen-Z) ও আমজনতার প্রতি সমর্থন জানান তিনি। অতীতের নানা রাজনৈতিক ওঠাপড়া ও নন্দীগ্রাম-ভবানীপুরের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি সাফ জানান, “রাজনীতির ময়দান থেকে এই অন্যায়ের বদলা আমি নিয়ে ছাড়বই। জীবন দিয়ে দেব, তাও হার মানব না।”