মমতার এক ফোনে বড় খেল! মোদী বিরোধী জোটে কি তবে নতুন এন্ট্রি নিচ্ছেন নবীন পট্টনায়েক?

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত আবেদনে সাড়া দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল ওড়িশার অন্যতম প্রভাবশালী দল বিজু জনতা দল (BJD)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) আয়োজিত নির্বাচন কমিশন অভিযানে যোগ দিল বিজেডি-ও। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মতো শরিক দলগুলির সঙ্গে এক মঞ্চে বিজেডি সাংসদদের এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

মমতার অনুরোধ ও বিজেডির ঐতিহাসিক অবস্থান বদল
জানা গিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, বিরোধী জোটের এই কর্মসূচিতে বিজেডিকে সামিল করার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে কথা বলবেন। সেই কথামতোই মমতার অনুরোধ ফেরাতে পারেননি ওড়িশার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচিতে বিজেডির অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ওড়িশার ক্ষমতায় থাকা বিজেডি অতীতে রাজ্য স্তরে একা লড়লেও, কেন্দ্রে শাসক বা বিরোধী—উভয় শিবিরের থেকেই সমান দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। এমনকি অতীতে সংসদে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে সমর্থনও জুগিয়েছে নবীন পট্টনায়েকের দল। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথমবার জাতীয় স্তরে বিরোধী শিবিরের কোনো যৌথ কর্মসূচিতে পা মেলাল তারা।

জল্পনা তুঙ্গে: তবে কি নতুন সদস্য জুড়ল ইন্ডিয়া জোটে?
বিজেডির এই নাটকীয় অংশগ্রহণের পরই রাজনৈতিক মহলে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে—তবে কি ‘ইন্ডিয়া’ জোটে নতুন সদস্য হিসেবে এবার স্থায়ীভাবে যোগ দিতে চলেছে নবীন পট্টনায়েকের দল?

এর আগে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পটপরিবর্তন দেখা গেলেও, জাতীয় রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন আম আদমি পার্টি (AAP) কিংবা ডিএমকে-র মতো শরিক দলগুলি নানা কারণে দূরত্ব বজায় রাখছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিজেডির এই অন্তর্ভুক্তি বিরোধী জোটকে নতুন অক্সিজেন জোগাল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *