বিশ্বজুড়ে আসন্ন ভয়ংকর খাদ্যসঙ্কট! হরমুজ প্রণালী নিয়ে কোন বড় ও বিস্ফোরক সতর্কবার্তা দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন?

বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও সাপ্লাই চেইন নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। হরমুজ প্রণালী এবং বাব-আল-মন্দেবের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিতে পণ্য পরিবহণে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে চরম খাদ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে জোরালো সতর্কবার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। গত ৫ অক্টোবর মিউনিখ লিডার্স মিটিংয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন।
সামুদ্রিক রুটে বিঘ্ন ও খাদ্য সঙ্কটের মেঘ
অর্থমন্ত্রী জানান, হরমুজ এবং বাব-আল-মন্দেবের মতো প্রধান সামুদ্রিক রুটগুলির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি এবং কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করা হয়। এই পথগুলিতে পরিবহণ ব্যাহত হলে গোটা বিশ্বের খাদ্য সুরক্ষা মারাত্মক বিপদের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি তিনি ‘মালাক্কা প্রণালী’র কথাও উল্লেখ করে বলেন যে, বর্তমানে ওই পথে বড় কোনো সমস্যা না থাকলেও, ভবিষ্যতে সেখানেও যদি কোনো বিঘ্ন তৈরি হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি আরও বেশি কঠিন হয়ে উঠবে।
সার ও কৃষিপণ্যের জোগানে বড় ধাক্কা
হরমুজ সঙ্কটের জেরে ইতিমধ্যেই সার আমদানির ক্ষেত্রে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের স্বল্পতা, অতিরিক্ত পরিবহন খরচ এবং বিপুল পরিমাণ বিমা প্রিমিয়ামের কারণে সার আমদানি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশ্বের সার্বিক কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে সার একটি অপরিহার্য উপাদান। তাই এই সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্যের আকাশছোঁয়া দামের ওপর।
ভারতের প্রস্তুতি ও জরুরি তহবিল
এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার আগে থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন নির্মলা সীতারামন। সার পরিবহনকারী জাহাজগুলির বাড়তি বিমা খরচ ও অন্যান্য সংকট কাটাতে একটি বিশেষ ‘শিপিং ইমার্জেন্সি ফান্ড’ বা জরুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ইউরিয়া ও ফসফেটের উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যদিও দেশীয় উৎপাদন পুরোপুরি বাড়িয়ে চাহিদা মেটাতে কিছুটা সময় লাগবে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটগুলি?
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই পথ দিয়ে তেল, গ্যাস ছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবাহিত হয়। এখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা চললে শুধু তেলের বাজার নয়, সার ও খাদ্য সরবরাহের গোটা কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। ভারত তার সার আমদানির বড় অংশের জন্য এই রুটগুলির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বাড়লেও, কৃষকদের যাতে সরাসরি আর্থিক সংকটে পড়তে না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র।