রাষ্ট্রসংঘে পাক সাংবাদিকের মুখে ঝামা ঘষলেন জয়শঙ্কর! কড়া জবাবে কাঁপল বিশ্বমঞ্চ

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কূটিনীতি এক নতুন ও শক্তিশালী অধ্যায়ের সূচনা করেছে। চিরাচরিত ভূ-রাজনৈতিক জোটে বন্দি না থেকে নির্দিষ্ট ও বিষয়ভিত্তিক জোট গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে উন্নয়নশীল দেশ বা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর স্বার্থরক্ষায় জোরালো সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি। নিউ ইয়র্কে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিশ্বরাজনীতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলো আর কেবল নীরব দর্শক বা গ্রহীতা হয়ে থাকবে না, বরং নীতি নির্ধারণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার ও বৈশ্বিক কূটনীতি চলমান অধিবেশনের ফাঁকে জামাইকা, ঘানা, সুরিনামসহ একাধিক দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের জাঁতাকলে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাগুলোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত নগণ্য। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবি তুলে ধরে তিনি জানান, কাঠামোগত এই পরিবর্তন ছাড়া বিশ্বশান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরানো অসম্ভব। উল্লেখ্য, সেন্ট লুসিয়ার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার বিষয়ক ‘এল.৬৮’ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

পাক সাংবাদিকের প্রশ্নের কড়া জবাব এদিন জাতিসংঘের মঞ্চে এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের উসকানিমূলক প্রশ্নের মুখে পড়েন এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদের ইস্যুকে সামনে রেখে প্রশ্ন করা হলে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ় ও কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দেন যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার্থে ভারত তার সমস্ত অধিকার প্রয়োগ করতে পিছপা হবে না। তাঁর এই মোক্ষম ও নির্ভীক জবাব মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়ে নেয়।

স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির বার্তা ভারত কোনো নির্দিষ্ট পরাশক্তির ব্লকে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে নারাজ—এ কথা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর পরিষ্কার করেছেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কোনো ‘দ্বিমুখী পছন্দ’ বা অন্যের চাপে সিদ্ধান্ত নেবে না, বরং নিজ নিজ স্বার্থ, মূল্যবোধ ও আস্থার ওপর ভিত্তি করেই পথ চলবে। লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সৌরশক্তি চালিত জোট গড়ে তোলার মাধ্যমে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সামগ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় এক নতুন ও ভারসাম্যপূর্ণ সমীকরণ তৈরি করতে পুরোপুরি প্রস্তুত তারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *