প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের হয়ে লড়েছিলেন ২৮ বাঙালি! ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যাওয়া সেই বীরদের চিনলে চমকে যাবেন!

ফরাসি উপনিবেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের আলোয় যখন সেজে উঠেছে হুগলির চন্দননগর, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক বড় ঐতিহাসিক আক্ষেপ। ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে যখন ‘ফরাসি রেজিস্ট্রি বিল্ডিং’ সংস্কারের উৎসব চলছে, তখন সম্পূর্ণ স্মৃতির আড়ালে চলে গেছেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের পক্ষে রক্ত দেওয়া চন্দননগরের ২৮ জন বীর বাঙালি স্বেচ্ছাসেবী সৈনিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বীরত্ব ও অবদানের কথা আজ প্রায় ভুলতেই বসেছে বাংলা তথা দেশবাসী।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৯১৬ সালে ফরাসি সাম্রাজ্যের মিত্রশক্তির পক্ষে যুদ্ধ করতে চন্দননগর থেকে বেশ কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসবক হিসেবে ফ্রান্সে পাড়ি দিয়েছিলেন। ১৯১৮ সালে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরের পর মিত্রশক্তি জয়ী হলে তাঁরা স্বদেশে ফিরে আসেন। ফরাসি সেনার তরফে তাঁদের মেডেল দিয়ে সম্মান জানানো হলেও, দীর্ঘ ১০৮ বছরেও চন্দননগরের মাটিতে তাঁদের স্মরণে তৈরি হয়নি কোনো স্মৃতিসৌধ বা স্থায়ী স্থাপত্য।

যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেই ২৮ জন বাঙালির মধ্যে ছিলেন ফণীন্দ্রনাথ বসু, তারাপদ গুপ্ত, বিপিনবিহারী ঘোষ, সিদ্ধেশ্বর মল্লিক (ঘোষাল)-এর মতো নামী ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আক্ষেপ, ভারত বা ফ্রান্স—কোনো সরকারই এই বীরদের উপযুক্ত মর্যাদা দেয়নি। এমনকি ফরাসি আমলের এই জমজমাট উৎসবেও ব্রাত্য রয়ে গেছেন সেই যোদ্ধারা। ইতিহাসপ্রেমী ও পরিজনদের একটাই দাবি, ফরাসি সংস্কৃতির এই উদযাপনের মাঝে যেন চন্দননগরের মিউজিয়াম বা উপযুক্ত স্থানে ওই ২৮ জন বাঙালি সৈনিকের নাম ও স্মারক চিরকালের মতো অমর করে রাখা হয়, যাতে আগামী প্রজন্ম তাঁদের অবদান সগর্বে স্মরণ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *