‘তৃণমূল কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়!’ কমিশনে লড়াইয়ের মাঝেই বড় হুঙ্কার ঋতব্রতের

তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং বহুল চর্চিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। শনিবার দিল্লিতে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সামনে মুখোমুখি হয় বাংলার সদ্য প্রাক্তন শাসক শিবিরের দুই লড়াকু পক্ষ—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট-শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। উভয় পক্ষই নিজেদের সপক্ষে নথি ও জোরালো যুক্তি পেশ করেছে। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন ঋতব্রত শিবিরের কাছে আরও কিছু অতিরিক্ত নথিপত্র তলব করেছে।

বৈঠক শেষে মমতা শিবিরের প্রতিনিধি তথা বিশিষ্ট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছে যে তাঁদের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে লড়ার অধিকার নেই বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের চেয়ারপার্সন নন, ততক্ষণ তাঁরা এই প্রতীককেই আঁকড়ে থাকবেন। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বেঞ্চের সামনে মৌখিক সওয়াল ও নথিপত্র জমা দেওয়ার পর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, তৃণমূল কংগ্রেস কারও পারিবারিক সম্পত্তি হতে পারে না। সমস্ত অসঙ্গতি তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা কমিশনের সামনে তুলে ধরেছেন এবং তাঁরা সম্পূর্ণ আশাবাদী।

আসন্ন ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগে জোড়াফুল কাটার ফয়সালা না হলে দুই শিবিরের প্রার্থীদেরই নির্দল হিসেবে লড়াই করতে হতে পারে। এর মাঝেই অবশ্য ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চান, তবে তাঁরা সেখানে প্রার্থী প্রত্যাহার করে তাঁকে সমর্থন করতেও প্রস্তুত। প্রতীক কার হাতে উঠবে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *