আইআরসিটিসি কেলেঙ্কারিতে বিরাট আইনি আঘাত! তেজস্বী ও রাবড়ীদেবী সহ লালু পরিবারের ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন!

আইআরসিটিসি (IRCTC) হোটেল টেন্ডার জালিয়াতি ও অর্থ তছরুপ (Money Laundering) মামলায় বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল বিহারের প্রভাবশালী লালু পরিবার। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব, তাঁর স্ত্রী তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ী দেবী এবং ছেলে তেজস্বী যাদব সহ মোট ৯ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ বিশেষ আদালত। আগামী ৩ অক্টোবর আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হবে।

আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ

মামলার শুনানিতে বিশেষ বিচারক বিশাল গগনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, লালুপ্রসাদ যাদব কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ আত্মসাতের বলিষ্ঠ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া কোনোভাবেই ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ছিল না। রেলের তৎকালীন কর্মকর্তাদের সহায়তায় রাঁচি ও পুরীর দুটি আইআরসিটিসি হোটেলের ইজারা বা দেখভালের চুক্তি সুজাতা হোটেলস নামক একটি সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

ঠিক কী ছিল এই হোটেল কেলেঙ্কারি?

ঘটনাটি ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের, যখন লালুপ্রসাদ যাদব কেন্দ্রে রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সুজাতা হোটেলসকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে পাটনায় অত্যন্ত মূল্যবান জমি একটি বেনামি সংস্থার মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে লালু পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘লারা প্রজেক্টস’-এ হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাবড়ী দেবী ও তেজস্বী যাদব খুবই সামান্য টাকায় সেই সংস্থার শেয়ার কিনে জমির মালিকানা নিজেদের হাতে তুলে নেন। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং সিবিআই (CBI)-এর যৌথ তদন্তে এই বেআইনি লেনদেন ও আর্থিক কারচুপির প্রমাণ মেলে।

রেহাই পেলেন ৭ জন অভিযুক্ত

আদালত লালুপ্রসাদ যাদব, রাবড়ী দেবী, তেজস্বী যাদব, লারা প্রজেক্টস, পি সি গুপ্তা, সরলা গুপ্তা, সুজাতা হোটেলস এবং কোচড় ভাইদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দিলেও অন্য ৭ জন অভিযুক্তকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত বা রেহাই দিয়েছে। রেহাই পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গৌরব গুপ্তা, নাথ মল কাকারানিয়া, রাহুল যাদব, বিজয় ত্রিপাঠী, দেবকী নন্দন তুলসিয়ান, রাজীব কুমার রেলন এবং অভিষেক ফিন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড।

এই নির্দেশের পর আইআরসিটিসি অর্থ তছরুপ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বা ট্রায়াল শুরু হওয়ার পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল, যা বিহারের রাজনীতিতে এক বিরাট আলোড়ন তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *