শুভেন্দুর ছেড়ে দেওয়া আসনেই কি লড়বেন মমতা? বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে বড় চমকের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন—নান্দীগ্রাম এবং রেজিগর উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই আবহে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো—শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম আসন থেকেই কি তবে লড়বেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বিশেষ করে টিএমসি (TMC) এক বিদ্রোহী নেতার তরফে বড়সড় অফার পাওয়ার পর এই জল্পনা এখন তুঙ্গে।
ঠিক কী বলছেন বিদ্রোহী নেতারা?
নির্বাচন কমিশন আগামী ৯ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিগর আসনে উপনির্বাচন করার কথা ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা তথা বিধায়ক আখরুর জামানের একটি মন্তব্যে রাজনৈতিক পারদ চড়ে গেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রাম থেকে উপনির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাঁদের বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী দেবে না।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে সুেন্দু অধিকারীর কাছে ব্যবধানে হারের পর মমতার বিধানসভায় ফেরা নিয়ে নানামুখী চর্চা চলছে। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। ফলে এই হাইভোল্টেজ আসনে যদি সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হন, তবে তা হবে বাংলার রাজনীতির অন্যতম বড় ফ্ল্যাশব্যাক।
কী বলছে তৃণমূল নেতৃত্ব?
যদিও বিদ্রোহী নেতার এই অফার এবং মমতার প্রার্থী হওয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিলমোহর দেওয়া হয়নি। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার সম্পূর্ণভাবে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শীর্ষ নেতৃত্বের রয়েছে। তাঁরাই ঠিক করবেন যে মমতা নিজে ময়দানে নামবেন নাকি অন্য কাউকে প্রার্থী করা হবে।
অন্যদিকে, জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরও এর আগে রেজিগর আসনটি ছেড়ে দিয়ে মমতাকে সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজের ছেলেকে প্রার্থী করায় রেজিগর থেকে মমতার লড়ার সম্ভাবনা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। ফলে সমস্ত আলো এখন এসে ঠেকেছে সেই ঐতিহাসিক নন্দীগ্রামের দিকেই।
শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া এই আসনে শেষ পর্যন্ত কী সমীকরণ তৈরি হয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ময়দানে নেমে মাস্টারস্ট্রোক দেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।