প্রতিদিন ঘি খাচ্ছেন তো? সাবধান! এটি কি সত্যিই পিত্তথলিতে পাথর জমার আসল কারণ? জানুন চিকিৎসকদের গোপন সতর্কবার্তা

ভারতবর্ষের রান্নাঘরে দেশি ঘি-কে বরাবরই একটি পুষ্টিকর ‘সুপারফুড’ হিসেবে দেখা হয়। ছোট থেকে বড়—সবার শরীর সুস্থ রাখতে ঘিয়ের জুড়ি মেলা ভার। তবে সাম্প্রতিককালে অনেকের মনেই একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—অতিরিক্ত পরিমাণে দেশি ঘি খেলে কি পিত্তথলিতে পাথর (Gall Bladder Stone) হতে পারে? এই বিষয়ে কী বলছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
ঘি ও পিত্তথলির পাথরের আসল যোগসূত্র
কেলাশ দীপক হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ড. যতিন্দর সিং ভোগল জানান, শুধুমাত্র বেশি ঘি খেলেই সরাসরি পিত্তথলিতে পাথর হয়ে যাবে, এমনটা নয়। মূলত পিত্তরসে থাকা উপাদানগুলির ভারসাম্য নষ্ট হলেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। তবে অতিরিক্ত ঘি খাওয়ার ফলে শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ক্যালোরির পরিমাণ মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যায়। এর জেরে ওজন বৃদ্ধি এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা চড়ে যেতে পারে, যা পরোক্ষভাবে পিত্তথলিতে পাথর জমার ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কারও শরীরে ইতিমধ্যেই পিত্তথলিতে পাথর থেকে থাকে, তবে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বা ঘি খেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফ্যাটি খাবার খাওয়ার ফলে পিত্তথলি সংকুচিত হয় এবং পিত্তরস বের হতে গিয়ে অনেক সময় পাথরের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, যা আকস্মিক তীব্র পেটে ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন?
স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের লিভার, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এবং প্যানক্রিয়াটিকো-বিলিয়ারি সায়েন্সেসের চেয়ারম্যান ড. অনিল অরোরা স্পষ্ট করেছেন যে গগল ব্ল্যাডার স্টোন মূলত একটি মেটাবলিক সমস্যা। তবে পিত্তথলিতে এই সমস্যা একবার দেখা দিলে অতিরিক্ত ঘি বা তেলযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে তার উপসর্গ ও কষ্ট বহুলাংশে বেড়ে যেতে পারে।
তাই পেট বা পিঠের ডান দিকে তীব্র ব্যথা, ঘন ঘন বমি ভাব, জ্বর কিংবা চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ভুলেও তা অবহেলা করবেন না। অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।