খোলা মাঠে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু! ঝাড়খণ্ডে বুনো হাতির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য

খোলা মাঠে বিপজ্জনকভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি পোতা এবং তারের সংস্পর্শে আসার জেরে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হলো একটি বুনো হাতি। ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার বালুমাথ থানা এলাকার কোমার গ্রামে রবিবার গভীর রাতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় কেবল একটি হাতিরই মৃত্যু হয়নি, বরং আরও বেশ কয়েকটি হাতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে বন দফতর এবং ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ফসলের খেতের মাঝেই পাতা ছিল বিদ্যুতের তার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই লাতেহারের বালুমাথ এলাকার কোমার গ্রাম ও তার আশেপাশে বুনো হাতির উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছিল। রাতের অন্ধকারে প্রায় নিয়মিতভাবেই হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর করছিল এবং পাকা ফসল নষ্ট করছিল। গত রবিবার রাতেও প্রায় ১৫টি বুনো হাতির একটি বিশাল দল খাবারের খোঁজে গ্রামে ঢুকে পড়ে।

বন বিভাগের ট্র্যাকার পাপ্পু মাহাতো জানিয়েছেন, তাঁরা রাত প্রায় ২টো পর্যন্ত হাতিগুলির পিছু ধাওয়া করে তাদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কিছু সময় পর হাতির পালটি আচমকাই আবার ফিরে এসে এক গ্রামবাসীর ভুট্টার খেতের দিকে এগিয়ে যায়। অভিযোগ, সেই খেতের মধ্যেই আগে থেকে অবৈধভাবে বা অবৈজ্ঞানিকভাবে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি বসানো ছিল। সেই লাইনেই জড়িয়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি। গ্রামবাসীরা রাতে হাতির যন্ত্রণাদায়ক চিৎকারের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের ধারণা, শুধু ওই একটি হাতিই নয়, ওই একই এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও কয়েকটি হাতি কম-বেশি আহত হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি বা সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সামনে আসেনি।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও তদন্ত শুরু
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়েই তড়িঘড়ি আসরে নামে বন দফতর। লাতেহারের ডিএফও (DFO) প্রবেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই বন বিভাগের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বন কমিটির চেয়ারম্যান সুনীল ওরাওঁ স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, বারবার প্রশাসনের তরফ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও কৃষিজমিতে বা খোলা মাঠে এভাবে বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তার বা সংযোগ লাগিয়ে রাখার জন্যই এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে।

অন্যদিকে, ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার নন্দ কুমার মেহতা জানিয়েছেন যে, মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে আসার পরেই হাতির মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে যেভাবে ফসলের সুরক্ষার নামে মাঠে যত্রতত্র খোলা তার ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে, তা বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *