আইআইটি মান্ডির ক্য়াম্পাসে ‘শূদ্রদের কাজ উচ্চবর্ণের সেবা’! শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর পোস্টার ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড়

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর পবিত্র উৎসবের দিন হিমাচল প্রদেশের আইআইটি মান্ডি (IIT Mandi) ক্যাম্পাসে এক চরম বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরের ওই পোস্টারে সমাজকে চতুর্বর্ণে ভাগ করার পাশাপাশি ‘শূদ্ররা উচ্চবর্ণের সেবা করার জন্যই তৈরি’—এমন আপত্তিকর ও জাতিভেদমূলক বার্তা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে নড়েচড়ে বসে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আইআইটি প্রশাসন।

ঠিক কী নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক?

সম্প্রতি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আইআইটি মান্ডি ক্যাম্পাসের একটি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে “ভগবদ্গীতা – দ্য টাইমলেস উইজডম” (Bhagavad Gita – The Timeless Wisdom) শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামের বাইরে একটি বিশেষ পোস্টার সাঁটানো হয়। ওই পোস্টারটিতে সনাতন সমাজের সনাতন চতুর্বর্ণ প্রথা—ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র—সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

পোস্টারে দাবি করা হয়, ব্রাহ্মণদের মূল ভূমিকা হলো “ঈশ্বরের বার্তা ছড়ানো”, ক্ষত্রিয়দের কাজ “সমাজ ও আধ্যাত্মিকতার সুরক্ষা করা”, বৈশ্যদের দায়িত্ব “অর্থনীতি পরিচালনা ও অন্যদের সাহায্য করা” এবং শূদ্রদের কাজ হলো একমাত্র “উচ্চবর্ণের মানুষের সেবা করা”। এছাড়াও পোস্টারে গীতার একটি বিশেষ শ্লোক যুক্ত করে বলা হয় যে, মানব সমাজের এই চার বর্গ নাকি ‘ভৌতিক প্রকৃতির তিন গুণ ও কর্মের’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক লেখা প্রকাশ্যে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

আইআইটি ডিরেক্টরের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত কমিটি গঠন

এই গোটা ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর লক্ষ্মীধর বেহরা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, কিছু ছাত্র নিজেদের মতো করে পবিত্র গীতার ভুল ও বিকৃত ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। তিনি নিজে দীর্ঘ দিন ধরে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ISKCON) এবং গীতার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এই ধরনের জাতিভেদ বা বৈষম্যের তীব্র বিরোধী বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।

গত রবিবার আইআইটি মান্ডি কমিউনিটির উদ্দেশ্যে পাঠানো এক ই-মেইলে ডিরেক্টর বেহরা জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে লাগানো ওই পোস্টারটির বিষয়বস্তু দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত “মর্মাহত ও শকড” হয়েছেন। ইনস্টিটিউট কোনোভাবেই এই ধরণের জাতিগত বিভেদ বা বৈষম্যমূলক প্রচারকে সমর্থন করে না। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এবং ক্যাম্পাসের সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে শিক্ষক বা ফ্যাকাল্টি সদস্যদের পাশাপাশি তফশিলি জাতি (SC) এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (OBC)-সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধি রাখাও নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরেই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইআইটি কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *