প্লাস্টারের বদলে পায়ে বাঁধা রয়েছে কার্ডবোর্ড! বিহারের সরকারি হাসপাতালের এই ‘নতুন প্রযুক্তি’ দেখে মাথায় হাত সাধারণ মানুষের

বিহারের সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। খোদ রাজ্যবাসীর একাংশ কটাক্ষ করে বলছেন, এটি বুঝি এক “নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি”, যা কেবল বিহারের হাসপাতালেই দেখা সম্ভব। প্রকৃতপক্ষে, কৈমুরের মোহানিয়া মহকুমা হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক যুবকের ভাঙা পায়ে প্লাস্টার কাস্ট বা মেডিকেল স্প্লিন্ট ব্যবহার না করে কার্ডবোর্ড দিয়ে বেঁধে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে সর্বত্র।
ঠিক কী ঘটেছিল মোহানিয়া হাসপাতালে?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রবিবার শাহবাজপুর গ্রামের তিনজন বাইকে করে ওষুধ কিনতে নুয়াঁ যাওয়ার পথে মুজান গেটের কাছে একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা আহত উমরাবতী দেবী (৪৫), তাঁর ১৫ বছরের মেয়ে করিশমা কুমারী এবং প্রিন্স কুমারকে (৩৫) দ্রুত চিকিৎসার জন্য মোহানিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রিন্স কুমারের পায়ে মারাত্মক ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। কিন্তু চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা জানান, ভাঙা পা স্থিতিশীল করার জন্য যে মেডিকেল স্প্লিন্ট বা প্লাস্টার কাস্টের প্রয়োজন হয়, তা হাসপাতালে উপলব্ধ ছিল না। এর পরিবর্তে রোগীর পা সোজা রাখতে বা ঠেস দেওয়ার জন্য এক টুকরো সাধারণ কার্ডবোর্ড বা কাগজের বাক্স দিয়ে তা বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর প্রাথমিক ওই ব্যবস্থার পরেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বারাণসীতে রেফার করা হয়।
জনরোষ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা
জাতীয় মহাসড়কের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত হওয়ায় মোহানিয়া মহকুমা হাসপাতালে প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা আসেন। অথচ জরুরি পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চিকিৎসা সামগ্রী ও সরঞ্জামের এই চরম অপ্রতুলতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, যদি দুর্ঘটনায় কারও পা ভেঙে যায় এবং প্রাথমিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো বন্দোবস্তও হাসপাতালে না থাকে, তবে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর জীবনের দায়িত্ব কে নেবে?
পরিবারের লোকজনের আশঙ্কা, ভাঙা পাটিকে সঠিকভাবে মেডিকেল সাপোর্ট না দিয়ে যেভাবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, তাতে রোগীর হাড় কিংবা আশেপাশের টিস্যু আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মূলত পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাবে এই হাসপাতালটি কেবল একটি ‘রেফারেল কেন্দ্র’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
হাসপাতাল প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
গোটা ঘটনাটি চাউর হতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে মহকুমা হাসপাতালের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অবিনাশ কুমার সিং জানান যে, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও রোগীর পরিবার জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসার জোরালো দাবির মুখে এই ধরনের ঘটনা সেই প্রশাসনকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।