ISRO কি তবে বেসরকারি হাতে চলে যাচ্ছে? সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে অবশেষে যা জানাল কর্তৃপক্ষ!

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তথা ইসরোকে (ISRO) কি পুরোপুরি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে? গত কয়েকদিন ধরে এই জল্পনা ঘিরেই দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা ও জট কাটিয়ে অবশেষে আসরে নামল কর্তৃপক্ষ। সমস্ত গুঞ্জন উড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, ইসরোকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

কী নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক?
ইসরোর বেসরকারিকরণ নিয়ে তীব্র জল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল সম্প্রতি ‘ইন-স্পেস’ (IN-SPACe)-এর চেয়ারম্যানের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি দাবি করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে ইসরো আর নিজে হাতে কোনো রকেট তৈরি করবে না এবং কোনো রকেট উৎক্ষেপণের দায়িত্বেও তারা থাকবে না। এই সমস্ত মহাকাশ সংক্রান্ত বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত কাজের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এবার থেকে ধীরে ধীরে বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে সঁপে দেওয়া হবে।

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ ও ইসরোর অন্দরে কর্মরত হাজার হাজার কর্মী ও তাঁদের পরিবারগুলির মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। আশঙ্কা তৈরি হয় যে তবে কি দেশের মুকুটে এত বছরের গৌরব এনে দেওয়া এই প্রধান জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি তার স্বাধিকার হারাতে বসেছে? এমনকি পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে ইসরোর তৎকালীন চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে একটি জোরালো চিঠি পাঠায় সংস্থার মোট ৯টি কর্মী ইউনিয়ন।

ইসরোর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও সাফাই
কর্মীমহলের তীব্র চাপ এবং দেশজুড়ে চলা জল্পনার পরেই বাধ্য হয়ে আসরে নামে ইসরো কর্তৃপক্ষ এবং একটি অফিসিয়াল বিবৃতি জারি করে সমস্ত বিভ্রান্তি দূর করে। সংস্থার তরফে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইসরোর বেসরকারিকরণের যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল, মনগড়া ও ভিত্তিহীন। ভারতের মহাকাশ গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসরোর যে সুমহান মর্যাদা ও স্থান রয়েছে, তা বিন্দুমাত্র খর্ব বা পরিবর্তিত হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে ইচ্ছুক যে, ইসরোর বেসরকারিকরণ তো দূরের কথা, এর ঐতিহাসিক গুরুত্বও বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। ভারতের মহাকাশ গবেষণা, দেশের কৌশলগত ও জাতীয় প্রতিরক্ষা অভিযান, উন্নত মহাকাশ বিজ্ঞান এবং জটিল প্রযুক্তিগত সমস্ত গবেষণার প্রধান ও চালিকাশক্তি হিসেবেই বরাবরের মতো কাজ চালিয়ে যাবে ইসরো।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত জুলাই মাসেও প্রায় ১০০ জন অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী একযোগে স্বেচ্ছাবসর বা ভিআরএস (VRS) নেওয়ার কারণে শিরোনামে এসেছিল দেশের এই গর্বের সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির চড়া বেতনকাঠামো, আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা এবং উচ্চ পদাধিকারের লোভেই বহু মেধাবী বিজ্ঞানী সরকারি চাকরি ছেড়ে অন্যদিকে ঝুঁকছেন। সব মিলিয়ে, বেসরকারিকরণের এই ভীতি এবং নানা জল্পনা কাটিয়ে ইসরোর এই কড়া ও স্পষ্ট অবস্থান আপাতত দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানপ্রেমী সাধারণ মানুষকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *