রাখির আনন্দ মিটতে না মিটতেই শেষ সব! বাড়ি ফিরে আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহুতল ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু মেধাবী ছাত্রের

রাখি পূর্ণিমার আনন্দ উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিভে গেল এক তরতপ্রাণ প্রাণ। রবিবার দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় যে সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী অর্পিত জাজ। রাখিবন্ধন উৎসব সেরে রবিবার সকালেই আনন্দ মনে দিল্লিতে নিজের পিজি-তে ফিরেছিলেন ওই তরুণ। কিন্তু কে জানত, এই ফেরাটাই তাঁর জীবনের শেষ ফেরা হবে?

ছুটি কাটিয়ে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপত্তি

মৃত অর্পিত জাজ মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসের কৈলাদেবী এলাকার জয় বজরং নগরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দিল্লির স্বনামধন্য আত্মারাম সনাতন ধর্ম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের বি.কমের ছাত্র ছিলেন এবং পড়াশোনার খাংশারই দিল্লিতে একটি পিজি বিল্ডিংয়ে থাকিতেন। সম্প্রতি রাখিবন্ধনের ছুটি কাটাতে তিনি নিজের বাড়ি দেওয়াসে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষ করে রবিবার সকাল ৭টার নাগাদ তিনি নিরাপদে দিল্লিতে পৌঁছান। কিন্তু এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটে যায় সেই বিপর্যয়। সত্য নিকেতনের যে পিজি ভবনে তিনি থাকতেন, সেটি হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে।

বন্ধ মোবাইল ফোন ও পরিবারের আকুল আশঙ্কা

দিল্লিতে ছেলে পৌঁছানোর পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু অর্পিতের মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় পরিবারের উদ্বেগ তীব্র হতে শুরু করে। বারবার ফোন করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবারটি দ্রুত দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এদিকে ততক্ষণে ঘটনাস্থলে শুরু হয়ে গিয়েছে বিশাল উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক দেহ উদ্ধারের সময় পরিবারের বুক কাঁপছিল চরম আশঙ্কায়। শেষ পর্যন্ত সমস্ত আশাকে মিথ্যে করে দিয়ে উদ্ধারকারী দল থেকে অর্পিতের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে

ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে আকাশ ভেঙে পড়ে অর্পিতের বাবা ভূপেন্দ্র জাজ ও তাঁর পরিবারে। মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসের জয় বজরং নগর এলাকায় এই মর্মান্তিক সংবাদ পৌঁছানোর পর থেকেই গোটা এলাকায় শোকের মাতম চলছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা এই আকস্মিক বিপর্যয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। যে ছেলেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলেন বাবা-মা, তাঁর এভাবে চিরতরে চলে যাওয়ার বেদনা স্তব্ধ করে দিয়েছে সমগ্র পরিবারকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *