মাত্র দুদিনেই বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুণ! শেয়ার বাজারে ঝড় তুলে কোন আইপিও কামাল করল জানেন?

গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার শেয়ার বাজারে দুর্দান্ত আত্মপ্রকাশের পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের পকেটে টাকা বর্ষণ করে চলেছে ইএসডিএস সফটওয়্যার সলিউশনস (ESDS Software Solution)। লিস্টিংয়ের পর থেকেই লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী এই স্টক সোমবার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও বিরাট বুল রান দেখাল। এদিন ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (NSE) এই সংস্থার শেয়ার একেবারে ২০ শতাংশের আপার সার্কিটে পৌঁছে যায় এবং এর দাম গিয়ে দাঁড়ায় ১,০৯০.০৫ টাকায়। অথচ এই কোম্পানির আইপিও-র ইস্যু প্রাইস ছিল মাত্র ৪২৯ টাকা। যেখানে গত শুক্রবার বাজারে প্রথম তালিকাভুক্ত হওয়ার সময়ই শেয়ারটি ৭৬ শতাংশ প্রিমিয়াম নিয়ে ৭৫৭ টাকায় ডেবিউ করেছিল। আর এখন মাত্র দুটি ট্রেডিং সেশনের মধ্যেই আইপিও দামের তুলনায় এই স্টকের দাম লাফিয়ে প্রায় ১৫৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।
মাত্র দুই সেশনেই আড়াই গুণ রিটার্ন
আইপিও চালুর প্রথম দিনেই প্রায় ১১২ শতাংশের বেশি লাফ দিয়েছিল ইএসডিএস সফটওয়্যার সলিউশনসের শেয়ার। এরপর সোমবার অর্থাৎ আজ ফের ২০ শতাংশের আপার সার্কিট ছুঁয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে স্টকটি। এই দুরন্ত গতির ফলে যেসব ভাগ্যবান বিনিয়োগকারী আইপিও-তে এই সংস্থার শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছিলেন, তাঁদের বিনিয়োগ করা মূলধন মাত্র দুই দিনের ট্রেডিং সেশনেই অর্ধেকের বেশি বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আইপিও-র ৪২৯ টাকার ইস্যু প্রাইসের তুলনায় আজ তা প্রায় ১,০৯০ টাকায় পৌঁছানোয় বিনিয়োগকারীরা একপ্রকার রাতারাতি তাক লাগিয়ে দেওয়া রিটার্ন পেয়েছেন।
এখন কি এই শেয়ার কেনা ঠিক হবে? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
শেয়ার বাজারে এমন আকাশছোঁয়া ও দ্রুত দৌড়ের পর স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন জাগছে যে, এই মুহূর্তে কি আরও শেয়ার কিনে রাখা উচিত, নাকি মুনাফা তুলে (Profit Booking) বেরিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কোম্পানির এই লিস্টিং পারফরম্যান্স সমস্ত পূর্বের অনুমানকে ছাপিয়ে গেছে। কোম্পানির মার্জিন বৃদ্ধি, মুনাফা প্রায় নয় গুণ বেড়ে যাওয়া এবং শক্তিশালী কাস্টমার রিটেনশনের মতো ইতিবাচক দিকগুলির জন্যই বাজারে এর নিয়ে দারুণ ক্রেজ তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি ভারতে ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সেন্টার এবং সাইবার সিকিউরিটির চাহিদা যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে এই কোম্পানির ব্যবসার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
তবে একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এত কম সময়ে দাম এত দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এই স্টকে ঝুঁকিও বহুপরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বর্তমান স্তর থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আংশিক প্রফিট বুকিং করে লাভ ঘরে তুলে নিতে পারেন। যাঁরা আইপিও শেয়ার পেয়েছিলেন, তাঁরা চাইলে কিছু অংশ বিক্রি করে বাকি হোল্ডিংয়ের জন্য ৬৫-৬৮০ টাকার স্টপ-লস বজায় রাখতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁদের কাছে আইপিও ছিল না এবং যারা নতুন করে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাঁদের এই মুহূর্তে চড়া দামে স্টকটি না কিনে কিছুটা সংশোধনের (Correction) অপেক্ষা করা উচিত। যদি শেয়ারের দাম কোনো কারণে নেমে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার কাছাকাছি আসে, তবেই সেখানে নতুন করে কেনার কথা ভেবে দেখতে পারেন বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার সম্ভাবনা ভালো থাকলেও স্বল্পমেয়াদে এই অতি-গতির কারণে বাজারে প্রফিট বুকিংয়ের চাপ আসার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।
(ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে পরিবেশিত। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার আগে আপনার আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ অবশ্যই নিন। কোনো ধরনের মিউচুয়াল ফান্ড, আইপিও বা বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকে।)