সিকিমে ফের ভয়াবহ ধস! চেকং নদী অবরুদ্ধ হতেই তিস্তায় হাই অ্যালার্ট, চরম আতঙ্কে পাহাড়ি উপত্যকা

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে চরম উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সিকিমের পরিস্থিতি। রবিবার উত্তর সিকিমের নাগা অভয়ারণ্যের থিং টুন সংলগ্ন এলাকায় এক বিশাল ভূমিধস নামে। এই ভয়াবহ ধসের জেরে আংশিকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে চেকং নদী। পাহাড়ের মাটি ও পাথরে নদীর একটি বড় অংশ চাপা পড়ে যাওয়ায় এবং তা তিস্তার সঙ্গে মিলিত হওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে।
নদীর প্রবাহে বড় বাধা ও যোগাযোগ সংকট
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধসের পরিমাণ এতটাই ব্যাপক যে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পাহাড় কেটে তৈরি থিং টুন সুড়ঙ্গটি উত্তর সিকিমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ফলে এই ধসের প্রভাব কেবল নদীর ওপরই নয়, বরং সমগ্র এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, থিং টানেলের বিপরীতে নাগা বনাঞ্চল এলাকায় ‘নাগা তোসা’ সড়কের নতুন কাটা পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ভেঙে পড়েছে তিস্তা ও চেকং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে। এর ফলে দুই নদীর জলপ্রবাহ আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, চেকং নদীর একটি অংশ এখনও পর্যন্ত খোলা থাকায় সেই সুনির্দিষ্ট পথ দিয়ে জল প্রবাহিত হতে পারছে। তবে ধসের প্রকৃত গভীরতা এবং নদীর ঠিক কতখানি অংশ অবরুদ্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট চিত্র সামনে আসেনি।
প্রশাসনের তৎপরতা ও হেল্পলাইন চালু
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে সিকিম সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন। সম্ভাব্য যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে মঙ্গন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলস্তর ও নদীর প্রবাহের ওপর ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার পাশাপাশি যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক বিশেষ জেলা হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।