সম্পর্ক বনাম কেরিয়ার নিয়ে অকপট অনিন্দিতা! ‘ঘুণ গাঁও’-এর কোন রহস্য নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী?

সম্পর্কের টানাপোড়েন আর পেশাগত কেরিয়ারের ইঁদুরদৌড়—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতেই জীবনের বহু রহস্য ধীরে ধীরে জমাট বাঁধে। নতুন সিনেমা ‘ঘুণ গাঁও’-তে তাঁর অভিনীত চরিত্রের রয়েছে একাধিক জটিল স্তর। আর সেই চরিত্রের সঙ্গে অভিনেত্রীর নিজের ব্যক্তিগত জীবনেরও কিছুটা মিল রয়েছে বৈকি! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারের ফাঁকে পপকর্ণ খেতে খেতেই নিজের ফিটনেস রুটিন থেকে শুরু করে নতুন ছবি এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের নানা অজানা দিক নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনিন্দিতা বসু।
‘ঘুণ গাঁও’-এর চরিত্র ও বাস্তব অনিন্দিতা
নতুন ছবি ‘ঘুণ গাঁও’-তে অনিন্দিতার চরিত্রটি বেশ সাহসী এবং নির্ভীক। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, বাস্তবের কর্মক্ষেত্র বা ব্যক্তিগত জীবনে আদতে কিসে ভয় পান তিনি? এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর সাফ জবাব, তিনি সবসময় সাধারণ ও ছোট ছোট বিষয়ের মধ্যে নিজের খুশি খুঁজে নিতে ভালোবাসেন। যদি কোনোদিন মনে হয় যে কোনোভাবেই তিনি খুশি থাকতে পারছেন না, তখন তাঁর তীব্র অস্বস্তি হয় এবং একটা অজানা ভয় কাজ করে। তবে কর্মক্ষেত্রে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো ভয় নেই। কারণ তিনি যা করেন, মন থেকেই ভালোবাসেন। তাঁর মতে, ভয় পেতে শুরু করলে পেশাগত কাজ এগোনোই অসম্ভব।
বাস্তব জীবনের সঙ্গে চরিত্রের মিল রয়েছে বলেই কি তিনি এই ছবিটি বেছে নিয়েছেন? অনিন্দিতার স্পষ্ট কথা, ব্যক্তিমানুষ হিসেবে সানায়া এবং অনিন্দিতা অনেকটাই কাছাকাছি ঠিকই, কিন্তু সেটাই এই ছবি সই করার একমাত্র কারণ নয়। মূল আকর্ষণ ছিল চিত্রনাট্যের শক্তপোক্ত গল্প। এটি মূলত একটি থ্রিলার ঘরানার ছবি, যদিও এটিকে ঠিক কোন জঁ-রে ফেলা উচিত, তা নিয়ে এখনও দর্শকদের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো টিম। পরিচালক সৌম্যর ভাবনাচিন্তা একেবারেই অন্যরকম। গল্পটা প্রথম যখন তিনি শুনেছিলেন, তাঁর মনে হয়েছিল এটা থেকে আস্ত একটা ছবি তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চিত্রনাট্য শোনার পর পরিচালক আত্মবিশ্বাস তাঁর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এই সিনেমাটি নিয়ে যে ইন্ডাস্ট্রিতে বড়সড় আলোচনা হবে, সে বিষয়ে তিনি একশো শতাংশ নিশ্চিত।
নাচ ও ছকভাঙা চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা
টলিউডে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের অফার পেলেও, এবার নাচকে কেন্দ্র করে তৈরি কোনো ছবিতে কাজ করার সুপ্ত বাসনা রয়েছে তাঁর। অনিন্দিতা মনে করিয়ে দিলেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ধ্রুপদী নৃত্য শিখেছেন এবং নাচ করতে দারুণ ভালোবাসেন। যদি হিন্দির ‘এবিসিডি’র মতো নৃত্যভিত্তিক কোনো ছবি এখানে তৈরি হয়, তবে তিনি সেখানে অভিনয় করতে মুখিয়ে রয়েছেন।
পাশাপাশি, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির কাস্টিং নিয়ে খানিক আক্ষেপও ঝরে পড়েছে তাঁর গলায়। এতদিন আত্মবিশ্বাসী, সাহসী এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্রের জন্যই তাঁকে বেশি কাস্ট করা হয়েছে। তবে এবার ছক ভেঙে কলকাতার একটি সাধারণ বাঙালি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ চান তিনি। বাংলা বলার ভঙ্গি নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও ডাবিংয়ের মাধ্যমে সেই ঘাটতি সহজেই পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন অভিনেত্রী। পরিচালকদের তাঁর ওপর একটু ভরসা রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি সাফ জানালেন, দীর্ঘদিনের কেরিয়ারে তিনি কঠোর পরিশ্রম করতে পিছপা হননি এবং আগামী দিনেও ব্যতিক্রমী চরিত্রের জন্য পুরোমাত্রায় খাটতে প্রস্তুত।
কেরিয়ারের পথে প্রিয়জনদের সমর্থন
পর্দায় কিংবা বাস্তবের জীবনে কেরিয়ার বনাম সম্পর্ক—এই দুয়ের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতিতে কি কখনও পড়তে হয়েছে তাঁকে? অভিনেত্রীর সোজাসাপ্টা উত্তর, ঈশ্বরের কৃপায় কাজের জায়গায় তিনি সবসময় পরিবারের এবং কাছের মানুষদের থেকে প্রবল সমর্থনই পেয়ে এসেছেন। জীবনের প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতেও প্রিয়জনদের সবসময় পাশে পেয়েছেন। এই ধরনের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে তাঁকে কখনো যেতে হয়নি বলেই তিনি ভাগ্যবান বলে মনে করেন।