একই চেহারার মানুষে ভরপুর গ্রাম! কেরলের এই অদ্ভুত জায়গায় পা রাখলেই মাথা ঘুরে যাবে

সবুজে ঘেরা শান্ত গ্রাম আর পাঁচটা জায়গার মতোই মনে হতে পারে, কিন্তু এখানকার বাসিন্দাদের দিকে একটু নজর দিলেই চোখ কপালে উঠবে। কেরলের মালাপ্পুরম জেলার ছোট্ট গ্রাম কোডিনহিতে একই চেহারার মানুষ যেন জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়ান! যমজ সন্তান জন্মানোর হার অস্বাভাবিক রকমের বেশি হওয়ায় এই জনপদ এখন বিশ্বজুড়ে ‘টুইন টাউন’ বা ‘যমজদের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত।

প্রায় ২ হাজার পরিবার বসবাসকারী এই গ্রামে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৫৫০ জোড়া যমজ রয়েছে। এখানকার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১ হাজার জন্মে প্রায় ৪২ থেকে ৪৫টি যমজ জন্মের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যা ভারতের জাতীয় গড়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অদ্ভুত প্রবণতা এক বা দুই প্রজন্মের নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে কোডিনহির রক্তে ও প্রকৃতির নিয়মে মিশে রয়েছে।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অদ্ভুত ঘটনার কথা প্রথম কোনো গবেষণাগারে ধরা পড়েনি, বরং দুই স্কুলছাত্রীর কৌতূহল থেকেই তা প্রকাশ্যে আসে। ২০০৬ সালে অষ্টম শ্রেণির যমজ বোন সমীরা ও ফেমিনা নিজেদের ক্লাসে অস্বাভাবিক সংখ্যক যমজ ছাত্রছাত্রী লক্ষ্য করেন। শুধুমাত্র তাঁদের ক্লাসেই আট জোড়া যমজ দেখে কৌতূহলী হয়ে তাঁরা একটি ছোট্ট সমীক্ষা চালান এবং দেখতে পান যে গোটা স্কুলেই তখন ২৪ জোড়া যমজ পড়াশোনা করছে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের একটি বৃহত্তর সমীক্ষায় এই গ্রামে প্রায় ২৮০ জোড়া যমজের সন্ধান মেলে।

এরপর থেকেই কোডিনহি বিশ্বজুড়ে গবেষকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এই গ্রামে কেন এত যমজ সন্তান জন্মায়, তার বৈজ্ঞানিক কারণ খুঁজতে জেনেটিক্স, পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে স্থানীয় পানীয় জলের নমুনা—সবকিছুই তন্নতন্ন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এমনকি ২০১৬ সালে সিএসআইআর-সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি এবং কেরল ইউনিভার্সিটি অব ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান স্টাডিজের গবেষকরাও দফায় দফায় নমুনা সংগ্রহ করেন। কিন্তু এতকিছুর পরেও নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণকে এর জন্য দায়ী করতে পারেননি গবেষকরা।

সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, এই গ্রামের যে নারীরা বাইরে বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান, তাঁদের কোল থেকেও বহু ক্ষেত্রে যমজ সন্তান জন্ম নেওয়ার ঘটনা নজির রয়েছে। ফলে এই রহস্যের জাল দিন দিন আরও জটিল হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য এই অলৌকিক ঘটনাকে এখন গ্রামের স্বাভাবিক পরিচয় বলেই মেনে নিয়েছেন এবং যমজ পরিবারগুলিকে একত্রিত করতে একটি অ্যাসোসিয়েশনও তৈরি করেছেন। বিজ্ঞান এখনও পর্যন্ত এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। তাই উত্তর খোঁজার দীর্ঘ প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও, কেরলের এই কোডিনহি গ্রামে একসঙ্গে দু’জনকে দেখতে পাওয়াটাই চিরকাল সবচেয়ে স্বাভাবিক ও আকর্ষক দৃশ্য হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *