AI কাড়ছে মধ্যবিত্তের প্রথম চাকরি! ফ্রেশারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠে এল চরম আশঙ্কার ছবি

ভারতের মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে প্রথম চাকরি কেবল মাসের শেষে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট মেসেজ নয়, এটি আর্থিক স্বাবলম্বনের প্রথম স্বাদ এবং পরিবারের চোখজুড়ানো এক বড় স্বপ্নের শুরু। কিন্তু কৃত্রিম মেধা বা এআই-এর (AI) রমরমা বাজারে সেই প্রথম সিঁড়িটাই আজ ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগের মেঘ ঘনাচ্ছে নতুন প্রজন্মের কেরিয়ারে।
আজকের দিনে বহু কাজই স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠছে। কলেজ পাস করা তরুণ-তরুণীরা অতীতে যে ছোটখাটো ও রুটিন মাফিক কাজগুলোর হাত ধরে পেশাদার দুনিয়ায় পা রাখতেন, এখন সেই কাজগুলো নিমেষে সামলে দিচ্ছে এআই। ফলে প্রশ্নটা আর শুধু ‘এআই চাকরি কাড়বে কি না’-তে আটকে নেই, বরং নতুন প্রজন্ম কাজ শেখার প্রথম সুযোগটুকু পাবে কোথায়, সেটাই এখন সবথেকে বড় সংকটের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এতদিন কেরিয়ার গড়ার সমীকরণটা বেশ সহজ ছিল—একজন নতুন কর্মী কাজে ঢুকে ছোটখাটো কাজ করতে করতে অফিসের খুঁটিনাটি বুঝবেন এবং ধীরে ধীরে অভিজ্ঞ হয়ে উঠবেন। কিন্তু ট্যালেন্টিফাই-এক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও চেতন মঙ্গলভেদের মতে, এআই যেন মধ্যবিত্তের কেরিয়ারের প্রথম সিঁড়িটাই মুছে দিচ্ছে। এখন ফ্রেশারদের কাছে প্রত্যাশা বদলে গেছে। শুধু রুটিন কাজ করা নয়, বরং শুরু থেকেই এআই-এর ভুল ধরা এবং নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করার মতো পরিপক্বতা দাবি করা হচ্ছে। সংস্থাগুলি খরচ বাঁচাতে এআই ব্যবহার করলেও, এর ফলে ভবিষ্যতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের তীব্র আকাল দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
অন্যদিকে, মাসটেক-এর সিএইচআরও বিমল ডাঙরির মতে, এআই কেবল প্রবেশস্তরের কাজ কেড়ে নিচ্ছে না, কেরিারের ধারণাকেই আমূল বদলে দিচ্ছে। আগামী দিনে নতুন পদের ক্ষেত্রে গতে বাঁধা কাজের বদলে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ও নিজস্ব বুদ্ধিমত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আবার এআই অ্যান্ড বিয়ন্ড-এর সিইও জসপ্রীত বিন্দ্রার মতে, প্রযুক্তির ওপর অন্ধের মতো নির্ভর না করে যারা সময়মতো নিজেদের বদলে নিতে পারবে না, তারাই পিছিয়ে পড়বে।
অবশ্য এর অন্য দিকটিও তুলে ধরেছেন ইনফোসিসের বিশেষজ্ঞ তৃপ্তি রাইকার। তাঁর মতে, একঘেঁয়ে খাটুনিগুলো যন্ত্র করে দিলে তরুণ কর্মীরা অনেক দ্রুত আইডিয়া তৈরি ও সিদ্ধান্তের মতো অর্থবহ জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—ভুল না করলে ঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আসে কোথা থেকে? বাস্তব অভিজ্ঞতার আগুনে না পুড়লে পেশাদারি পরিপক্বতা তৈরি হতে পারে না। তাই কৃত্রিম মেধার আসল আঘাত কেবল কর্মসংস্থান কমানোতে নয়, বরং প্রথম সুযোগটুকু পাওয়ার চেনা পথটি চিরতরে মুছে ফেলার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে।